কান উৎসবে জুরি সভাপতি মনিয়া শোকরি
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, আপডেট ০৯:২০
৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে ক্যামেরা দ’অর পুরস্কারের জুরি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কানাডিয়ান অভিনেত্রী, নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার মনিয়া শোকরি। ক্যামেরা দ’অর পুরস্কারটি দেওয়া হয় উৎসবে নির্বাচিত সেরা প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে, যা কান উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশন, ক্রিটিকস উইক, অথবা ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগে প্রদর্শিত হয়ে থাকে।
মনিয়া শোকরি বলেন, ‘‘প্রথম অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনের সেরা স্মৃতিগুলোর একটি। যেভাবে কেউ প্রথমবার ভালোবাসায় পড়ে, অথবা অজানা কোনো ভূখণ্ডে পা রাখে–সেই সোনালি অনুভূতি আমাদের মনে গেঁথে থাকে। হয়তো এজন্যই এ পুরস্কারটির নাম ক্যামেরা দ’অর, অর্থাৎ সোনার ক্যামেরা।’’
প্রতিবছরের মতো এবারও ক্যামেরা দ’র জুরিতে তাঁর সঙ্গে থাকবেন চারজন সদস্য, যাদের নির্বাচন করা হয়েছে ফরাসি সিনেমাটোগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশন, চলচ্চিত্র সমালোচক ইউনিয়ন, সোসাইটি অব ফিল্ম ডিরেক্টরস এবং ফেডারেশন অব ফিল্ম, অডিওভিজ্যুয়াল অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া থেকে।
কানাডার কুইবেকের মন্ট্রিয়লে বেড়ে ওঠা মোনিয়া শোকরির শিল্পীজীবনের শুরু অভিনয়ের মাধ্যমে। থিয়েটার, টেলিভিশন ও সিনেমা–এই তিন মাধ্যমেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। এরপর তিনি নির্মাণ শুরু করেন। নির্মাতা হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু ২০১৩ সালে, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এন এক্সট্রাঅর্ডিনারি পারসন’ দিয়ে। হতাশা, একাকিত্ব আর হাস্যরসকে মিলিয়ে তৈরি সেই কাজ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন উৎসবে প্রশংসা কোড়ায়। তখনই বোঝা গিয়েছিল, নির্মাতা হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। এরপর নির্মাণ করেন ‘আ ব্রাদার্স লাভ’।
২০১৯ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘আন সের্তা রেগার’ বিভাগে ছবিটি জুরি পুরস্কার পায়। তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত কাজগুলোর একটি ‘দ্য নেচার অব লাভ’। ২০২৩ সালে কান উৎসবের ‘আন সের্তা রেগার’ বিভাগে প্রদর্শিত ছবিটি পরের বছর সেজার পুরস্কারে সেরা বিদেশি সিনেমার সম্মান পায়।
সত্তরের দশকের নান্দনিকতায় নির্মিত এই সংবেদনশীল প্রেমের গল্পে তিনি প্রেম, সম্পর্ক এবং শ্রেণিগত ব্যবধানকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন। একদিকে অভিজাত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ, অন্যদিকে সাধারণ ও কম শিক্ষিত পরিবার।
এই দুই ভুবনের সংঘাতকে তিনি অসাধারণ দক্ষতায় দেখিয়েছেন। মোনিয়া শোকরির সিনেমায় সংলাপ, দৃশ্যের গতি, আর সাউন্ডট্র্যাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউডি/কেএস

