পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩৭
আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) তাদের প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী, প্রতিরক্ষা খাত ও অন্যান্য সরকারি কার্যক্রমে গণমাধ্যমের স্বাধীন প্রবেশাধিকার ক্রমান্বয়ে সীমাবদ্ধ করার যে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এই সিদ্ধান্তকে তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) এ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ এক বিবৃতিতে জানান, প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রেস অফিসটিকে এখন থেকে একটি উচ্চ নিরাপত্তা সংবলিত ‘সেন্সিটিভ কমপার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি’ বা এসসিআইএফ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে এই অফিসটি ট্রাম্পের স্পিচরাইটার বা বক্তব্য লেখকরা ব্যবহার করছেন, যাদের নিয়মিত সরকারের অত্যন্ত গোপনীয় ও সংবেদনশীল নথি নিয়ে কাজ করতে হয়।
ভালদেজ আরো জানান, স্পিচরাইটারদের কাজের জন্য পেন্টাগনের খুবই সুরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হয়। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থেই সাংবাদিকরা আর এই কার্যালয়ে সরাসরি প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কার্যালয় ও প্রেস সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সাপেক্ষে প্রবেশাধিকার মিলবে।
হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে পেন্টাগনের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।
এর আগে গত মার্চ মাসে পেন্টাগন জানিয়েছিল, নতুন প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বা সাংবাদিক স্বীকৃতি নিয়ম নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের দায়ের করা মামলায় আদালতের চূড়ান্ত রায় আসার পর থেকে পেন্টাগন ভবনে আর কোনো গণমাধ্যম সংস্থাকে স্থায়ী অফিস রাখতে দেওয়া হবে না।
গত মে মাসে পেন্টাগন নতুন নিয়ম জারি করে যে, কোনো সাংবাদিক এই কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকলে সার্বক্ষণিক একজন সরকারি এসকর্ট সঙ্গে রাখতে হবে। এই নিয়মটি বাতিলের দাবিতেও আদালতে আইনি লড়াই চালাচ্ছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
এদিকে আমেরিকার প্রধান ও সবচেয়ে প্রভাবশালী সাংবাদিক সংগঠন ‘ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব’ পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে গণমাধ্যমের ওপর ‘উদ্বেগজনক আগ্রাসন’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি মার্ক শোফ জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেন, “আমেরিকার সামরিক বাহিনীর ওপর স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন তৈরি করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় বা দয়া নয়। সাংবাদিকদের তথ্য পাওয়ার উৎস থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার অর্থ হলো আমেরিকার জনগণকে অন্ধকারে রাখা। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, যা একটি মুক্ত সমাজের জন্য চরম আশঙ্কাজনক।”
পেন্টাগনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অধিকার বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন।
সংস্থাটির অ্যাডভোকেসি চিফ সেথ স্টার্ন আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেন্টাগনের এই অজুহাতকে সম্পূর্ণ ‘বানোয়াট’ বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আজকাল পেন্টাগনের প্রেস অফিস থেকে চাতুর্যপূর্ণ বিভ্রান্তি আর মিথ্যা ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। সেখানে গোপন তথ্য ফাঁসের অজুহাত হাস্যকর। পিট হেগসেথের পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে একমাত্র সংবেদনশীল বা গোপন বিষয় হলো- সেগুলো সবই মিথ্যা।”
ইউডি/কেএস

