বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশেও

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশেও

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, আপডেট ১১:০০

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের জেরে তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৮ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়ায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এতে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি এলাকায় একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। এতে মুদ্রাস্ফীতি ও দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ৭০ শতাংশের বেশি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, স্বর্ণকে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হার এর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি সুদ বা আয় পাওয়া যায় না।

ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা পেতে বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে ভারতে স্বর্ণ আমদানির শুল্ক বাড়ানোর কারণে চোরাচালানও বেড়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, চলতি বছর দেশটিতে ১০০ মেট্রিক টনের বেশি স্বর্ণ চোরাচালান হতে পারে।

বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশীয় বাজারেও সাধারণত সমন্বয় করা হয়।

সবশেষ গত ৬ জুন স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায়।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading