বেনাপোলে শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, ৩ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক পণ্য খালাস
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, আপডেট ১২:৫৫
বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন শ্রমিকরা। এতে বন্দর থেকে আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।
শ্রমের ন্যায্য মজুরি, ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য খালাসের সময় নিরাপত্তাসামগ্রী সরবরাহ এবং শ্রমিক কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা।
কর্মবিরতির কারণে সকালে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের অবস্থানের ফলে বন্দরে পণ্যজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জানা গেছে, বন্দরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ ও হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজের অধীনে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক পণ্য খালাসের কাজ করেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা কাজের তুলনায় খুব কম মজুরি পান। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য খালাসের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসামগ্রীও সরবরাহ করা হয় না। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপনের দাবি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবে কখনো এসিডে দগ্ধ হয়ে, আবার কখনো ক্রেনের তার ছিঁড়ে ভারী পণ্যের নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকদের মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটছে।
বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ রাখেননি। এমনকি বন্দরে তাদের কোন কার্যকর অফিসও নেই। এ বিষয়ে একাধিকবার স্মারকলিপি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা কর্মবিরতির ডাক দেন।
তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ চলমান সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিলে সকাল ১১টার দিকে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন। তবে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তাদের আশ্বস্ত করার পর শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে। বর্তমানে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
ইউডি/রেজা

