সুইজারল্যান্ডে আমেরিকা-ইরান আলোচনা স্থগিত
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৫:২০
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন দফার সরাসরি আলোচনা পিছিয়ে গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে হোয়াইট হাউস জানায়, জেডি ভ্যান্স আপাতত আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না। এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না।
এর একদিন আগে আমেরিকা ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। দুই দেশ চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।
চুক্তিতে লেবাননেও যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হলেও দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতভর দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের চার সেনাও নিহত হয়েছে বলে জানায়।
যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সুইজারল্যান্ডে ‘কারিগরি আলোচনা’ করার কথা ছিল।
তবে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে, বার্গেনস্টক রিসোটে আমেরিকা ও ইরানের নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। তবে আলোচনার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়।
মূলত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে আমেরিকার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের আগ্রহে নয়, বরং আমেরিকার হতাশাই এই চুক্তির চালিকাশক্তি ছিল।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতির উদ্দেশে দেয়া এক বার্তা মোজতবা খামেনি লিখেছেন, ‘এরইমধ্যে আপনারা জেনেছেন যে, ইরান ও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, চুক্তি সইয়ের জন্য আমাদের কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, তবে এটি স্পষ্ট যে আমেরিকান পক্ষই সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতাশাগ্রস্ত হয়ে চুক্তিটি সম্পন্ন করতে সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন।’
১৪ জুন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেন। গত বুধবার (১৭ জুন) ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে আমেরিকা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ইউডি/রেজা

