কাতারে গ্যাস কারখানায় বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৪:০৫
কাতারের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে বিস্ফোরণে ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ আছেন আরো ১৮ জন।
সোমবার (২২ জুন) কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) উত্তরে অবস্থিত ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’র বারজান কারখানায় এই ‘অভ্যন্তরীণ বিস্ফোরণ’ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের পর সরকারিভাবে এই দুর্ঘটনার পেছনে ‘কারিগরি ত্রুটি’কে দায়ী করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের পরপরই কাতার ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ গ্রুপ নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার শুরুতে দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা কোনো হতাহতের খবর মেলেনি বলে জানালেও, পরবর্তীতে বড় সংখ্যার এই হতাহতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে আহতদের শারীরিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
শিল্প হাবটির পরিচালনাকারী সংস্থা ‘কাতারএনার্জি’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সাথে সাথেই তাদের জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এছাড়া কেন্দ্রটি থেকে ক্ষতিকারক কোনো গ্যাস বা উপাদান লিক হয়নি, ফলে সাধারণ জননিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।
কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। এর আগে গত মার্চ মাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এই শিল্প নগরীটি ‘গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছিল। ওই হামলার জেরে কাতারএনার্জি আন্তর্জাতিক চুক্তির বিশেষ ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’ ধারা কার্যকর করে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়, যার প্রভাব পড়েছিল ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো ক্রেতা দেশগুলোর ওপর।
ইউডি/কেএস

