মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, আপডেট ০১:১০

শুরুতেই হতাশা। ৩৯ বছর বয়সে দুর্দান্ত ফর্মে থেকেই আই গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। একেবারে সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন লিওনেল মেসি। চারদিকে হতাশার গুনগুনানি। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক পেনাল্টি মিসের পর ভেঙে পড়েছিলেন খানিক সময়ের জন্য। তারপর ঘুরে দাঁড়ালেন এবং জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনাকে নিলেন শেষ ৩২ এ। ২-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে নকআউটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজ বক্সে ঢোকা মাত্রই শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান লাউতারো মার্টিনেজ।

রেফারি প্রথমে পেনাল্টি দেননি। পরে ফাউলটি আবার পরীক্ষা করতে ভিএআর স্ক্রিনের দিকে এগিয়ে যান। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

অষ্টম মিনিটে মেসি শট নেওয়ার জন্য এগিয়ে যান। গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন। কিন্তু মেসি প্রমাণ করলেন যে তিনিও একজন মানুষ! তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দিলেন। গোলরক্ষক ঠিক দিক অনুমান করতে পেরেছিলেন, কিন্তু তাকে কোনো সেভ করতে হয়নি।

মেসির সামনে দারুণ সুযোগ ছিল ২১ মিনিটে! তিনি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন, কিন্তু আলাবা পেছন থেকে বলটি ছুঁয়ে দেন। তাতে বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে হতাশা আর্জেন্টিনা শিবিরে।

৩৩ মিনিটে অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি পাস দারুণভাবে এগিয়ে এসে আটকে দেন শ্লাগার। কিন্তু তিনি বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। মেসিও কোনো সময় নষ্ট না করে সরাসরি গোলে শট নেন। গোলপোস্ট সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকায় আলাবা একেবারে সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে নিশ্চিত গোল ব্লক করে দেন।

৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সূত্রপাত করেন মেসি নিজেই এবং পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে বলটিকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে ফিনিশিং করেন। বিশ্বকাপের রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে তো গেলেনই, দলকেও এগিয়ে দিলেন। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে আর্জেন্টিনা।

৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি দুর্দান্ত আক্রমণ শেষ হয় ফের্নান্দেসের জোরালো শটের মাধ্যমে। অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার তা ব্লক করে দেন।

৭৪ মিনিটে গঞ্জালেসের হেড পোস্টের বাইরে যায়। মেসি বাম দিক থেকে একটি চমৎকার কর্নার কিকে বল ডি-বক্সে বাড়ান এবং গঞ্জালেস দুর্দান্তভাবে এগিয়ে এসে হেড করেন। চেষ্টাটি দারুণ ছিল এবং বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে ঘেঁষে চলে যায়।

দ্বিতীয় গোলের জন্য আর্জেন্টিনা চাপ দিতে থাকে। ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দারুণ সুযোগ এসেছিল গঞ্জালেসের সামনে। কিন্তু অস্ট্রিয়ার ডি-বক্সের ভেতর তার নেওয়া শটটি ব্লক হয়ে যায় ৮৭ মিনিটে।

মেসি শেষ দিকে করেছেন আরেকটি গোল। ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস বল নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আর্জেন্টিনা এক বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে। তার নেওয়া শটটি শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে, যদিও তখন বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন আগলে দাঁড়িয়েছিলেন।

মেসির প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয় শটে তিনি গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading