জলাবদ্ধতা নিরসনে মোবাইল পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে: ডিএসসিসি প্রশাসক
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৪:৩৫
টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে মোবাইল পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ডিএসসিসির নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে ‘ঢাকা উৎসব’ আয়োজন সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আবদুস সালাম বলেন, “বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ করতে পারলেই নগরবাসীর দুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই ডিএসসিসি বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল পাম্প ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “রবিবার বিভিন্ন এলাকায় আমরা মোবাইল পাম্প ব্যবহার করেছি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পাম্প পাঠানো হয়। পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করেছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা পুরো বর্ষা মৌসুমজুড়ে অব্যাহত থাকবে।”
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে উঠে গেলে শহরের পানি স্বাভাবিকভাবে নদীতে নামতে বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনে নদীর পানির অবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হয়।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ঢাকার চারপাশের নদীপথ ও নৌ-যোগাযোগ সচল রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত নৌপথের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে চলাচল সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।”
“ঢাকা শহরে ৩৩টি জলাবদ্ধতা-প্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- শহরের পানি দ্রুত নদীতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ‘ওয়ে আউট’ বা নির্গমন পথ তৈরি করা”, যোগ করেন তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “নিউমার্কেট ও ঢাকা কলেজ এলাকায় জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলো পূর্বের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। একইভাবে পুরান ঢাকার কিছু এলাকাতেও পানি বের হওয়ার পথ সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব স্থানে নতুন পানি নিষ্কাশন পথ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে যদি আরো ৮ থেকে ১০টি কার্যকর পানি নিষ্কাশন পথ তৈরি করা যায়, যেগুলোর মাধ্যমে সরাসরি নদীতে পানি প্রবাহিত হবে, তাহলে জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। তবে, এ ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সময় লাগবে।”
ডিএসসিসি প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
ইউডি/কেএস

