কুকুরের খাওয়া বিস্কুট খেয়ে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

কুকুরের খাওয়া বিস্কুট খেয়ে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৭:৩৫

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশীর পোষা কুকুরের ফেলে দেওয়া বিস্কুট খাওয়ার পর জলাতঙ্কে (রেবিস) আক্রান্ত হয়ে রবিউল মিয়া (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা রুনা বেগমও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত রবিউল ভৈরব পৌরসভার কালিপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। সে ওই এলাকার মিজান মিয়ার ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন বাড়ির সামনে খেলছিল রবিউল। এ সময় প্রতিবেশী মুসা মিয়ার স্ত্রী তাদের পোষা কুকুরকে বিস্কুট খেতে দেন। কুকুরটি বিস্কুটের একটি অংশ খেয়ে বাকিটা ফেলে রেখে যায়। পরে শিশুটি অজ্ঞতাবশত ওই ফেলে দেওয়া বিস্কুটটি কুড়িয়ে খেয়ে ফেলে। এর কিছুদিন পর থেকেই তার শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে রবিউলকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় এবং সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কিন্তু বুধবার (১৫ জুলাই) তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় শিশুটি মারা যায়।

এদিকে শিশুটির মা রুনা বেগমের মধ্যেও জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে দ্রুত ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহতের রবিউলের চাচাতো ভাই পাশের বাড়ির ইব্রাহীম মিয়া বলেন, পোষা কুকুরকে নিয়মিত ভ্যাকসিন দিতে হয়। ওই বাড়ির পোষা কুকুরকে খোলা জায়গায় খাবার দেওয়া হতো, নিষেধ করা হলেও তারা তা মানেনি। এভাবে একটি শিশুর মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। এর আগেও ওই পোষা কুকুর দ্বারা অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

নিহত শিশুর বাবা মিজান মিয়া অভিযোগ করে সংবাদকর্মীদের জানান, প্রতিবেশীরা নিয়মিত আমাদের বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় তাদের পোষা কুকুরকে খাবার দিত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নিষেধ করলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই আজ আমার শিশুসন্তানকে হারাতে হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি কিভাবে নিশ্চিত হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে নিহতের বড় ভাই ইসমাইল হোসেন বলেন, ভাগলপুর হাসপাতালের ডাক্তারের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত মুসা ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর দাবি করেন, ওই শিশুকে হাসপাতালে আনা হলে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন এখান থেকেই পুশ করা হয়। পরবর্তীতে শিশুটির অবস্থা অবনতি হলে অন্য হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।

গতকাল শিশুটির মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এলে তার স্বজনদের কাছ থেকেই এমন তথ্য জানতে পেরেছেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading