কক্সবাজার সৈকতে আকস্মিক টর্নেডোর আঘাত

কক্সবাজার সৈকতে আকস্মিক টর্নেডোর আঘাত

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৯:৩৪

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আকস্মিকভাবে একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডোর আঘাতে অন্তত এক কিলোমিটার এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার পর এ ঘটনা ঘটে। টর্নেডোর আঘাতে সৈকতে থাকা কিটকটের ছাতা-চেয়ার, লকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হঠাৎ সৃষ্ট এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৈকতে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং সৈকতে দায়িত্ব পালনরত লাইফগার্ড সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, হঠাৎ সমুদ্রের ওপর কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি সৃষ্টি হতে দেখি। পরে সেটি পানি ও প্রবল বাতাস নিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের দিকে ধেয়ে আসে। এমন দৃশ্য দেখে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, সৈকতে দেখা দেওয়া ঘূর্ণি বাতাসটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তিনি বলেন, টর্নেডো সাধারণত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হয়ে থাকে। এর কবলে পড়লে প্রাণহানির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে গ্রীষ্মকাল ছাড়াও বছরের অন্য সময়েও টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টর্নেডো আমেরিকায় হলেও বাংলাদেশেও টর্নেডো হয়ে থাকে। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ টর্নেডোর ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে।

এদিকে কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, টর্নেডোটি ধীরে ধীরে সাগর থেকে বালুচরের দিকে এগিয়ে এসে বেলা পৌনে তিনটার দিকে সৈকতে আঘাত হানে। এতে সৈকতে থাকা অন্তত ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং অন্যান্য স্থাপনা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading