সংসদ ঘেরাও কর্মসূচিতে উত্তাল দিল্লি: পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ

সংসদ ঘেরাও কর্মসূচিতে উত্তাল দিল্লি: পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (২০ জুলাই) ২০২৬, আপডেট ১৭:১১

ইন্ডিয়ার রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) ডাকা সংসদ অভিমুখে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংসদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ যান মোতায়েন করে। এতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন।

সোমবার (২০ জুলাই) ইন্ডিয়ান সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনের সঙ্গে মিল রেখে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা এ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা জন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সংসদসংলগ্ন একাধিক ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

দলটির দাবি, পুলিশ অভিযান চালিয়ে জন্তর মন্তর থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপককে আটক করেছে।

জন্তর মন্তর, কনস্টিটিউশন ক্লাব, রেল ভবন, শাস্ত্রী ভবন, জনপথ, কনট প্লেস এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) আশপাশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। শাস্ত্রী ভবন ও রেল ভবনের কাছে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে কয়েকটি স্থানে লাঠিচার্জও করা হয়।

রেল ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ বারবার মাইকিং করে বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও একাংশ ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এদিকে কনস্টিটিউশন ক্লাব ও আরবিআইয়ের কাছেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। নিরাপত্তা বাহিনী বলপ্রয়োগ করে তাদের সরিয়ে দেয় এবং সংসদমুখী অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দেয়।

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় কনট প্লেস এলাকায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা হলে আউটার সার্কেলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জলকামান, ‘বজ্র’ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ যান এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি মেট্রোর কয়েকটি স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংসদ ভবন ও সেন্ট্রাল ভিস্তা এলাকায় জনসাধারণের চলাচল এবং যান চলাচলও সীমিত করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আন্দোলনস্থল ও আশপাশে সিগন্যাল জ্যামার ব্যবহারের কারণে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হয়। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এর আগে সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় নয়াদিল্লিজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৫টিরও বেশি ব্যাটালিয়ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নেয়।

এদিকে সিজেপি দাবি করেছে, তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনায় বসতে কেন্দ্র সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading