ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে: এসপি মাসুদ
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১২:১৮
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠিয়ে অস্ত্র মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন মূলত পুলিশের তৎপরতা বুঝতে পেরে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করি।
তিনি আরও বলেন, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে এবং অস্ত্র মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ ও সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে জানা যায়, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন- মো. শামীম (২৮), মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় মৃত আবুল হোসেনের পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়ন এবং অপরাধচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে।
ইউডি/রেজা

