বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১০:৩৩
ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। পাঁচ মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে হরমুজ প্রণালী আবার চালু করার লক্ষ্যে আমেরিকা-ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ০৮ ডলারে নেমে এসেছে।
একই সময়ে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বুধবার ব্রেন্টের দাম সামান্য বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কিছুটা কমেছিল।
নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। গত ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি সইয়ের সময় যে পর্যায়ে তেলের দাম ছিল, এখন আবার সেই অবস্থায় ফিরে এসেছে। দুই দেশ শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজরে।
রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং দুইজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা কমাতে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকবে। এটি ইরানের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ধরনের ছাড়গুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর একটি চুক্তি খুব শিগগিরই হতে পারে। তবে আমেরিকার কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে দেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নেবেন না।
এদিকে পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আমেরিকার নতুন করে হামলা চালালে এর জবাবে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এর মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বুধবার দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দর নগরী ইয়ানবুর কাছে একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে আরেকটি সৌদি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউকি তাকাশিমা বলেন, হুথিদের হামলার কারণে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এখনো রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, সেটি কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, আমেরিকার জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে। শোধনাগারগুলোতে তেল পরিশোধনের গতি কিছুটা কমে যাওয়া এবং আমদানি বাড়ার কারণে এই মজুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইআইএ জানিয়েছে, ৩১ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের মজুত ২৫ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪০ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, ওই সপ্তাহে মজুত ১৫ লাখ ব্যারেল কমবে।
ইউডি/কেএস

