মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১২:০৩
শিশু, কিশোরী, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি উন্নয়ন এবং শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশে ধর্মীয় নেতাদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এর তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, ধর্মীয় নেতারা সমাজের মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য। তারা শুধু ধর্মীয় বিষয়েই নয়, মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগ্রহী।
তিনি বলেন, শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা, মায়ের সুস্বাস্থ্য এবং কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে আরও সক্ষম ও মানবিক করে গড়ে তোলা সম্ভব। এক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুই একটি সুস্থ, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা জরুরি।
তারা বলেন, দেশের মসজিদ, মাদরাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। জুমার খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল, ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক পরামর্শ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা মা ও শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্য, পরিচর্যা এবং শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ বিষয়ে সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
সভায় ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভেসহ বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশে বিশেষ করে গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, কিশোরী এবং শূন্য থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে পুষ্টিঘাটতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়েও মা ও শিশুর পুষ্টি বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান ও তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারের কারণেও অনেক ক্ষেত্রে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অ্যাডভোকেসি সভায় পাঁচটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এগুলো হলো গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের পুষ্টি এবং মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টেশন, শূন্য থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুর পুষ্টি, কিশোরীদের পুষ্টি, শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ এবং শিশুদের অতিপুষ্টি বা স্থূলতা প্রতিরোধ।
সভায় এসব বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নেওয়া হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতে কমিউনিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য সহজবোধ্য, গ্রহণযোগ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্মত তথ্য ও উপকরণ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে কমিউনিটির একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব। ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে মসজিদভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে পুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর পরিচর্যা, কিশোরীদের স্বাস্থ্য এবং শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ বিষয়ে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক সচেতনতা তৈরি হবে।
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. মুফতি ওয়ালিয়ুর রহমান খান, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম, ইউনিসেফের এসবিসি অফিসার উম্মে হালিমা, নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট মো. আজিজ খান, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলামসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইউনিসেফ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
ইউডি/কেএস

