ড্রোন হামলার পর লিবিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৫:২৬
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে জাওয়িয়ায় একটি বড় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ আগুন লেগেছে। সোমবার (১০ আগুন) রাতে আগুনে ট্যাংকটি পুরোপুরি ধসে পড়ে। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, হামলার শিকার ট্যাংকটিতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রোল মজুত ছিল।
ট্যাংকটি জাওয়িয়া শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগারে অবস্থিত। শোধনাগারটির দৈনিক তেল পরিশোধনের সক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।
এনওসি এক বিবৃতিতে জানায়, ব্রেগা অয়েল কোম্পানির মালিকানাধীন পেট্রোল সংরক্ষণ ট্যাংকটি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলার পর ট্যাংকটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি পুরোপুরি ধসে পড়ে।
ব্রেগা অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে পাশের ট্যাংকগুলোতে পানি দিয়ে ঠান্ডা করা হচ্ছে, যাতে আগুন অন্য ট্যাংকে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
এনওসি জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে জাওয়িয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে এ ধরনের হামলা হচ্ছে। সপ্তাহান্তে একটি ন্যাফথা সংরক্ষণ ট্যাংক ও একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টে দুটি ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে।
লিবিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা ফেসবুকে জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এ ঘটনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এনওসি। একই সঙ্গে হামলার কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
লিবিয়ার পার্লামেন্টের একটি কমিটিও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে তারা।
হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এবং তেল-গ্যাস খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাওয়িয়া শোধনাগারে এই ‘অপরাধমূলক হামলার’ তারা তীব্র নিন্দা জানায়।
লিবিয়ায় আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল মজুত রয়েছে। তবে ২০১১ সালে সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে বিভক্ত।
বর্তমানে লিবিয়ায় দুটি সরকার ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারটির নেতৃত্বে রয়েছেন জাতিসংঘ-স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবাহ। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার-সমর্থিত একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন রয়েছে।
ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী দবেইবাহ সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজধানীর কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইউডি/রেজা

