অবিশ্বাস্য পথচলায় এবার শিরোপার মঞ্চে মালাউই
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১০:১৫
সেমি-ফাইনালে পৌঁছানো ও বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াই ছিল রূপকথার মতো ব্যাপার। এখন যা হচ্ছে, তা বুঝি ছাড়িয়ে যাচ্ছে কল্পনার সুদূরতম সীমাও! উইমেন’স আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে প্রথম খেলতে এসে চমকের পর চমক উপহার দেওয়া মালাউই পৌঁছৈ গেল টুর্নামেন্টের ফাইনালে!
আসরের শুরু থেকে একর পর এক দৈত্য-বধের পালায় সেমি-ফাইনালে বুধবার মালাউই ৩-১ গোলে হারায় আলজেরিয়াকে।
অন্য সেমি-ফাইনালে স্বাগাতক মরক্কোকে হতাশ করে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলের জায় পায় ক্যামেরুন।
মালাউইয়ের এই সাফল্যকে বলা যায় ফুটবল ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় অঘটন ও চমকপ্রদ অধ্যায়গুলোর একটি। মেয়েদের ফুটবলে তাদের পথচলা শুরু করে মাত্র এই শতাব্দীর শুরুর দিকে। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তারা ২০০২ সালে। মহাদেশীয় আসরে এবারই প্রথম পা পড়ল তাদের।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৫৩ নম্বরে থাকা দলের টুর্নামেন্টে শুরুটাই ছিল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে। প্রথম ম্যাচে তারা ৩-১ গোলে হারিয়ে দেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন ও র্যাঙ্কিংয়ে ১১৭ ধাপ এগিয়ে থাকা নাইজেরিয়াকে। পরের ম্যাচে তারা ৩-১ গোলে হারায় র্যাঙ্কিংয়ে ৫৪ ধাপ এগিয়ে থাকা মিশরকে।
গ্রপের শেষ ম্যাচে অবশ্য তারা হেরে যায় ৮৮ ধাপ এগিয়ে থাকা জাম্বিয়ার কাছে। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই কোয়ার্টারে পা রাখে তারা। সেখানেও বিস্ময় ছড়িয়ে তারা বিদায় করে দেয় ৯৩ ধাপ এগিয়ে থাকা ঘানাকে।
সেমি-ফাইনালে উঠেই আগামী বছরের বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে ফেলে তারা। উইমেন’স আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সেমি-ফাইনালে ওঠা চার দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে।
এরপর ছিল নতুন ইতিহাসের পালা। সেখানে এবার তাদের শিকার র্যাঙ্কিংয়ে ৭৯ ধাপ এগিয়ে থাকা আলজেরিয়া। ফাইনালেও জিততে পারলে পূর্ণতা পাবে তাদের রূপকথা।
অন্য সেমি-ফাইনালে একদম শেষ সময়ের জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার মিনিট দুয়েক আগে বিতর্কিত একটি পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু ফাতিমা তাগনাউতের শট ফিরিয়ে দেন ক্যামেরুনের গোলকিপার মিশেলি বিহিনা।
বিহিনা পরে টাইব্রেকারে আরও তিনটি শট ঠেকিয়ে ক্যামেরুনকে নিয়ে যান ফাইনালে।
রাবাতে রোববার ফাইনালে আফ্রিকা পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন।
ইউডি/কেএস

