লোহিত সাগরে হুতি আতঙ্ক: যেভাবে আড়ালে নামছে সৌদির তেল
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৩:৫২
ইয়েমেনের হুতিদের হামলা এড়াতে ট্যাংকারগুলো ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ করে দেওয়ায় লোহিত সাগর থেকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত এক অদৃশ্য কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
দেশটির ইয়ানবু বন্দর থেকে সব লোডিং এখন গোপনে পরিচালিত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
২০ জুলাই সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয় হুতিরা। ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে এ পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত আমেরিকা ও এর মিত্রদের লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে।
ওই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্যাংকার, ইয়ানবুর তেল স্থাপনা এবং জাজানের তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে, এর ফলে জাহাজগুলো তাদের ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ করা শুরু করে।
জাহাজগুলো নিজেদের ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ করে গোপনে চলাচল করতে শুরু করায় সৌদির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে হুতিতের হুমকির কেমন প্রভাব পড়েছে তা মূল্যায়ন করা জটিল হয়ে উঠছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব রপ্তানি মূল্যায়ন তৈরি করছে সেগুলোতে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এসব তথ্য বাজারের গতিপ্রকৃতির পূর্বাভাসের জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা, ওপেক ও ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে।
তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভোর্টেক্সার হিসাব অনুযায়ী, ২ অগাস্টের পরের সপ্তাহে ইয়ানবুর লোডিং আগের সপ্তাহের দৈনিক ২৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল থেকে কমে ২৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
কেপালারের হিসাব অনুযায়ী, ৪০ লাখ চার হাজার ব্যারেল থেকে কমে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নেমেছে আর এএক্সএসমেরিনের হিসাবে লোডিং আরও বেড়ে দৈনিক চার লাখ ২০ হাজার ব্যারেল থেকে আট লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে উঠেছে।
রয়টার্স লিখেছে, যারা পণ্যবাহী জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করছে, তারা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বেরিয়ে আসার পর ট্র্যাকিং পদ্ধতিতে জাহাজটি ফের দৃশ্যমান হওয়ার ওপর নির্ভর করছে, পাশাপাশি স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে তারা জাহাজ চলাচলের তথ্য যাচাই ও অসম্পূর্ণ তথ্য সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছে।
ভোর্টেক্সার জর্জ মরিস ও কেপলারের নওয়ে খিন সো-র তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইয়ানবুতে কার্গোগুলো গোপনে লোড করা হচ্ছে; এর অর্থ কোনো এআইএস ট্র্যাকিং চালু রাখা হচ্ছে না। ২৩ জুলাই থেকে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের ৭০ শতাংশ শিপমেন্ট নিরবিচ্ছিন্ন এআইএস কভারেজের বাইরে থাকছে।
হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে দৈনিক ৫০টির জায়গায় ৩২টিতে নেমে এসেছে। সৌদি আরব এখন তেল রপ্তানি করতে প্রধানত সুয়েজ খাল ও মিশরের সুমেদ পাইপলাইন ব্যবহার করছে।
সুমেদ পাইপলাইন ব্যবহারের ফলে মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর ও তেল টার্মিনাল সিদি কেরির লোডিং নতুন উচ্চতায় উঠে দৈনিক ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে; এই অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ সৌদির।
ইউডি/রেজা

