শাবিপ্রবিতে নবীনদের ৪ ঘণ্টা আটকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

শাবিপ্রবিতে নবীনদের ৪ ঘণ্টা আটকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চার নবীন শিক্ষার্থীকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে র‍্যাগিংয়ের নামে অশালীন ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অভিনয় করানোর অভিযোগ উঠেছে ছয় সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হল সংলগ্ন বড়গুল রিপন ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের চার শিক্ষার্থীকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে চেয়ারকে মেয়ে এবং নবীন শিক্ষার্থীকে ছেলে সাজিয়ে যৌন কবিতার তালে তালে আপত্তিকর ও বিকৃত যৌন অভিনয় করানোর চেষ্টা করেন কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের গোলজার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের সোলাইমান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের সাব্বির, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তীব্র, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের মারুফ ও আবু রায়হান।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন—সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের নাসির, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের মো. গোলাম মোর্শেদ ও শাহাদাত হোসেন সাগর এবং বাংলা বিভাগের জিয়াউর রহমান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর জন্মদিন উপলক্ষে আমাদেরকে নিয়ে বসার কথা বলে ছয়জন সিনিয়র আমাদের র‍্যাগ দেয়। প্রথমে চারজনকে বিভিন্ন ধরনের নাচ করতে বাধ্য করা হয়। সেসময় কেউ ভুল করে হাসলে তাকে পা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। পরে বিভিন্ন ধরনের (দশ রকমের) কান্নার অভিনয় করানো হয়।”

তিনি আরও বলেন, “একজনকে গামছার মাধ্যমে মেয়ে এবং আরেকজনকে ছেলে সাজিয়ে প্রপোজ করার অভিনয় করানো হয়। এরপর বিভিন্ন অশালীন ও প্রাপ্তবয়স্কদের কবিতা জোরে জোরে পড়তে বলা হয়। একজনকে আপত্তিকর শব্দ বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ করতে বাধ্য করা হয়।”

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাকে একটি চেয়ারের সামনে দাঁড় করিয়ে সেটিকে মেয়ে কল্পনা করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কবিতার তালে অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়। আমি তখন খুবই ভেঙে পড়েছিলাম, কান্না চলে আসছিল। তবুও তারা বারবার চাপ দিচ্ছিল অভিনয় করতে। ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি এখনো সেই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারিনি।”

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সোলাইমান কবিরকে কল দিলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, “সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু, যে অভিযোগগুলো আসছে সেগুলো কিছু হয়েছে। তবে, আমি এগুলো করিনি। এগুলো করেছেন আইপি বিভাগের সাব্বির।”

সাব্বিরকে কল দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই ফোন কেটে দেন।

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী মারুফ বলেন, “আমদের নিজেদের ঘটনা নিজেরা সমাধান করে নিয়েছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বেলাল হোসেন শিকদার বলেন, “এ বিষয়ে আজকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে বসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading