গ্রিসযাত্রায় ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু: পথ হারিয়েছিল নৌকা, লাশ সাগরে ফেলেন জীবিতরা

গ্রিসযাত্রায় ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু: পথ হারিয়েছিল নৌকা, লাশ সাগরে ফেলেন জীবিতরা

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৫:০৫

লিবিয়া থেকে নৌকায় চেপে গ্রিসে যাওয়ার সময় সম্প্রতি যে ৯ বাংলাদেশি মারা গেছেন, সেই যানটি পথ হারিয়ে দিন দশেক ভূমধ্যসাগরে ভাসছিল।

জীবিতদের একজন জানিয়েছেন, ভাসমান থাকার সময় প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, খাদ্য ও পানির অভাবে নয় বাংলাদেশি ও এক সুদানিসহ মোট ১০ জন মারা যান। পচন ধরায় একপর্যায়ে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেন জীবিতরা।

দিক হারানো নৌকাটি গত ১৩ অগাস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে এসে পৌঁছালে ২৯ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। তারা বর্তমানে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাস।

রবিবার দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি জানতে পেরে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) জাকির হোসেন স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পুলিশের কাছ থেকে দূতাবাস জানতে পেরেছে, তাদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ওই ২৯ অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের এক কর্মীর সহায়তায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল করিমের সঙ্গে কথা বলেছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা জাকির হোসেন।

সেই আলাপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অগাস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি মিলিয়ে মোট ৪২ জন লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন।

নৌকাটি স্পিডবোট ইঞ্জিন চালিত হলেও সেটিতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রার আগে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বলা হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে।

দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নৌকাটিতে যথাযথ নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না, একপর্যায়ে জ্বালানিও ফুরিয়ে যায়। তাতে যানটি দিকভ্রষ্ট হয়ে দিন দশেক ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকে। এভাবে ভাসতে ভাসতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে এসে পৌঁছায়।

আব্দুল করিমের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সাগরে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, খাদ্য ও পানির অভাবে অসুস্থ হয়ে ৯ বাংলাদেশি ও এক সুদানি মারা যান।

দীর্ঘসময় সাগরে অবস্থান করার কারণে মৃতদেহগুলোতে পচন ধরে যায়। করিম বলছেন, একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা ‘বাধ্য হয়ে’ মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেন।

দূতাবাস বলছে, ঘটনাটি জানার পর থেকে স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সেরে তাদেরকে দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের বক্তব্য এবং সরেজমিন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলেছে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাস।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading