মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে: ববি হাজ্জাজ

মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে: ববি হাজ্জাজ

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১২:৩৮

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে খেলায় খেলায় শেখার পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য স্থানীয় খেলাকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও সেই অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের খেলাগুলো নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে খেলানো যেতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়েও কাজ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় আনন্দময় শিখনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনন্দের সঙ্গে শেখা নিশ্চিত করতে হলে খেলায় খেলায় শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শিশুদের শুধু মুখস্থ করানোর মাধ্যমে ভালোভাবে শেখানো সম্ভব নয়। খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো হলে তাদের শেখার সক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি বাড়বে।

তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও প্রবলেম সলভিংয়ের দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি। আর প্রাথমিক বয়সে এসব দক্ষতা তৈরির জন্য খেলার মাধ্যমে শেখানো সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি। তাই নতুন পদ্ধতি পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশও সে অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। শুধু পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করলেই হবে না, এর সঙ্গে অবকাঠামোর বিষয়টিও যুক্ত। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকলে বা শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ খেলাধুলাভিত্তিক না হলে খেলায় খেলায় শেখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। বিশেষ করে প্রাথমিকের ছোট শিশুদের জন্য ক্রিকেট-ফুটবলের মতো বড় পরিসরের খেলাধুলার চেয়ে শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে করা যায় এমন খেলার ব্যবস্থা করা বেশি প্রয়োজন।

চীন ও জাপানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব দেশে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলার সমন্বয় করা হয়েছে। কোন শ্রেণিতে, কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় শেখাতে কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রমে উল্লেখ থাকে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।

বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় খেলনা ব্যবহারের একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয় শেখাতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক খেলনা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা ও শিক্ষার পরিবেশ যথাযথভাবে তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading