‘আমি এখন আর জামিন চাই না’, ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি

‘আমি এখন আর জামিন চাই না’, ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৭:৩৬

‘ভালোবাসার মানুষ আমাকে প্রয়োজনের সময়ে পাননি। এখন বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। সন্তানরা আমার জামিন চায়। কিন্তু আমার বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্বামীর মৃত্যুর পর জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে গিয়ে নিজের দুই বছরের কারাবন্দিত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আবেগঘন এ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি তদন্তাধীন মামলার নির্ধারিত তারিখ থাকায় দীপু মনিসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ১০ জনকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। এদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলাকালে তাদের এজলাসকক্ষে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে কথা বলার সুযোগ চান দীপু মনি।

অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমার আইনজীবী জামিন আবেদন করেছেন। আমি গত দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছি। কিন্তু আদালতের সামনে কথা বলিনি। আজ কিছু বলতে চাই। আমি এখন আর জামিন চাই না। আমার জামিন আবেদন প্রত্যাহার করছি।’

আবেগতাড়িত হয়ে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে দীপু মনি বলেন, ‘আপনারা যা বলেন, তা অনেক চিন্তাভাবনা করে কথা বলেন। আপনি এর আগে জামিন চাওয়ার সময়ে বলেছিলেন যে ‘বাসায় গিয়ে কি করবেন?’ আপনাদের কথাই সত্যি হয়েছে। আমার স্বামী সাত বছর ধরে অসুস্থ ও বাকরুদ্ধ হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি চোখের ইশারায় কথা বলতেন। আমি পাঁচ বছর সরকারের দায়িত্ব থাকার সময়েও তাকে আগলে রেখেছি। তার যত্ন নিয়েছি। তখন তার কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু গত দুই বছর ধরে আমি কারাগারে থাকায় তাকে বিভিন্ন অজ্ঞাত জায়গায় রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর কাছে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্বামীর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে থাকতে দেওয়া হয়নি। আমার ভালোবাসার মানুষ যখন আমাকে প্রয়োজনের সময়ে পাননি, এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমার সন্তানরা জামিন চায়। তবে আমার বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই।’

দীপু মনির এমন আবেগঘন কথাবার্তায় আদালতকক্ষে এক ধরনের নীরবতা নেমে আসে। ট্রাইব্যুনালও তার বক্তব্যের জবাব দেন।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘উই আর সাডেন্ড (আমরা মর্মাহত)। হোয়াটএভার ইউ সেইড, বাট মেনি আদার রিজন হ্যাড টু কনসিডার্ড অ্যান্ড উই থট বোথ সাইডস (আপনি যাই বলুন না কেন, আরও অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয় এবং উভয় পক্ষের কথাই ভাবতে হয়)।’

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দীপু মনির জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। গত ১৮ আগস্ট তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেয়েছিলেন সাবেক এই মন্ত্রী।

এদিকে, দীপু মনি নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাইলেও ডিফেন্স আইনজীবীর সম্মতিতে আবেদনটি পেন্ডিং রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এ নিয়ে শুনানির জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading