দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে নাটোরের ‘জিয়া খাল’

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে নাটোরের ‘জিয়া খাল’

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১২:৫৪

দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে ভুগছে নাটোরের গুরুদাসপুরের জিয়া খাল। প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রভাবশালী মহলের অব্যাহত দখল আর অনিয়ন্ত্রিত দূষণে খালটি এখন সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে পানিপ্রবাহ। যা নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ—এই তিন জেলার হাজার হাজার কৃষকের জন্য সেচ সংকট তৈরি করেছে।

জানা যায়, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালটির খননকাজ উদ্বোধন করেন। গুরুদাসপুর পৌর সদরের আত্রাই নদীর চাঁচকৈড় মৎস্যজীবীপাড়া থেকে শুরু হয়ে গুরুদাসপুর অংশে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহে গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন নামে প্রবাহিত হয়ে এটি পূর্বে সিরাজগঞ্জের হুরাসাগর নদী এবং পশ্চিমে তুলসীগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। খননের সময় খালটি ৪৩ ফুট প্রশস্ত থাকলেও বর্তমানে এর বেশিরভাগই দখলদারদের কবলে।

খালপাড়ের প্রবীণ কৃষক আজগর আলী, মিনহাজ ও শব্দের খাঁয়ের মতো অনেকেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই খালের পানিতেই কান্টগাড়ি, চরকাদহ, সোনাবাজু, সিধুলীসহ নাটোর,পাবনা, সিরাজগঞ্জ—এই তিন জেলার অসংখ্য বিলের চাষাবাদ হতো। বছরে তিনটি ফসল ফলিয়ে আমরা সচ্ছল ছিলাম। ছোট-বড় নৌকা চলত সারাবছর, কিন্তু এখন সব ইতিহাস। তাদের অভিযোগ, খাল মরে যাওয়ায় এখন ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচ দিতে হয়, যা ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

দেখা যায়, খালের উৎসমুখ চাঁচকৈড় থেকে চরকাদহ পর্যন্ত পুরো অংশই অবৈধ দখলে চলে গেছে। খালের ওপর গড়ে উঠেছে পাকা বাড়ি, দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। একইসঙ্গে খালজুড়ে জমেছে প্লাস্টিক, পলিথিন ও নানা ধরনের বর্জ্য। এতে খালের পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, অবৈধ দখলে জিয়া খালের স্মৃতিচিহ্ন মুছে যেতে বসেছে। আমরা বারবার খালটি পুনর্খননের জন্য বলেছি, কিন্তু উচ্ছেদের বিষয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা নেই। শুধু নামমাত্র খনন নয়, সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির আওতায় জিয়া খাল পুনর্খননের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই খননকাজ শুরু করা হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আমি খালটি পরিদর্শন করেছি। এর দখল ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খননের প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading