জয় দিয়েই হামজার শেফিল্ড অধ্যায় শুরু
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১২:৩০
স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে ফেরার পর প্রথম ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন হামজা চৌধুরী। শুরুটা কঠিন, মাঝের সময়টায় কিছুটা অস্বস্তি আর শেষটা ছিল রোমাঞ্চে ভরা। ব্র্যামল লেনে হামজা চৌধুরীর প্রত্যাবর্তনের গল্পটা যেন এমনই।
মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। দলের জয়ে সরাসরি গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান না থাকলেও পুরো ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই ফুটবলার। রাইটব্যাক হিসেবে খেলেছেন হামজা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রোমেল ডনোভানের গোলে শেফিল্ডের নাটকীয় জয় পায় শেফিল্ড।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খায় শেফিল্ড। মাত্র ২৩ সেকেন্ডে থিয়েরি গ্যালে বাঁ দিক দিয়ে উঠে শট নেন। সেই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন শেফিল্ডের খেলোয়াড়েরা, কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে জাভিয়ের সিমন্স জালে পাঠান। চার মিনিট পর জাফেট ট্যানগ্যাঙ্গার গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। বিরতির পর ৬৭ মিনিটে সাম ডালবির গোলে আবার এগিয়ে যায় বোল্টন। কিন্তু এক মিনিট পরই প্যাট্রিক ব্যামফোর্ডের গোলে সমতা ফেরায় শেফিল্ড। এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রোমেল ডনোভানের গোলে নিশ্চিত হয় ৩-২ ব্যবধানের জয়।
এই ম্যাচে হামজার জন্য আলাদা গল্প ছিল আরও একটি কারণে। একদিকে তিনি শেফিল্ডের হয়ে খেলেছেন, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ বোল্টনের একাদশে ছিলেন শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত জাভিয়ের সিমন্স, যিনি ম্যাচের প্রথম গোলটিও করেছেন। ফলে বাংলাদেশি সমর্থকদের চোখে ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল হামজা-সিমন্সের এক বিশেষ দ্বৈরথও।
তবে হামজার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার তাঁকে ১০-এর মধ্যে ৫ রেটিং দিয়েছে এবং রাইটব্যাক পজিশনে তিনি পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ ছিলেন না বলে উল্লেখ করেছে। বিরতির আগে একটি সুযোগও নষ্ট করেন হামজা।
হামজার জন্য নতুন ঠিকানায় নতুন করে শুরু করার প্রথম পূর্ণ পরীক্ষা ছিল ম্যাচটি। লেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনে ৩১ আগস্ট স্থায়ীভাবে শেফিল্ডে ফেরার পরদিনই তাঁকে একাদশে নামান কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। গত মৌসুমে ধারে শেফিল্ডের হয়ে ১৯ ম্যাচ খেলে প্লে-অফ ফাইনালে ওঠার পথে অবদান রেখেছিলেন হামজা। এবার স্থায়ীভাবে ফেরার পর প্রথম ম্যাচেই পেলেন ৯০ মিনিটের দায়িত্ব এবং দলের নাটকীয় জয়।
শেফিল্ডে ফেরার পর হামজার নিজের কথাতেও তাই ছিল স্বস্তি ও আবেগ, ‘ব্র্যামল লেনে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। অবশ্যই বড় সাফল্য, যদিও কাজটা কঠিন ছিল। প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে সন্ধ্যাটা আমরা শুরু করতে চাইনি। কিন্তু সতীর্থরা সাহসের সঙ্গে খেলায় ফিরেছে। এ স্টেডিয়ামটি বিশেষ, এখানকার দর্শকও বিশেষ।’
ইউডি/কেএস

