‘মাদক ও নৈতিকতাহীনতা থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে’

‘মাদক ও নৈতিকতাহীনতা থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে’

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৩:৪৫

দেশে মাদকাসক্তি ও নৈতিকতাহীনতা বাড়ছে উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এসব থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা, স্কাউটিং ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে।

একইসঙ্গে খেলাধুলা ও স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার মতো গুণাবলি গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের হাত ধরেই আগামী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে আমার সামনে প্রথম সারিতে যারা বসে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন। মেধাবীদের সমর্থন দিতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, স্কাউটিং থেকে নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়। খেলাধুলার মাধ্যমেও নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে। এসব কার্যক্রম তরুণদের মাদক ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে। স্কাউট থেকে শেখা যায় কীভাবে জনসভা করতে হয়, কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, কীভাবে জনগণকে ভালোবাসতে হয় এবং কীভাবে দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হয়। এখান থেকেই নেতৃত্বের শিক্ষা নিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে মাদকাসক্তি বাড়ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থা থেকে ফিরে আসতে হবে। এ জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের ২২ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে ফুটবল খেলায় যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাদের পুরস্কার দিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক ও মিডডে মিলের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস, কালচার, এথিকস ও মরালস এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক একটি স্কিম নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মেধাবীদের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে যে কাজ করেনি, তাকে সেই কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়া যায় না। এটা আমার কথা নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। তোমরা যারা ভালো ফল করেছ, তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সম্মানিত করা হবে। আমরা চাই, আগামী প্রজন্ম তোমরাই গড়ে তুলবে। বাংলাদেশের মানুষের মেধা ও জনসংখ্যা দেশের উন্নয়নের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারে। আগামী প্রজন্মের হাত ধরেই দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে।

বক্তব্যে নারী শিক্ষার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, নারী শিক্ষায় উপবৃত্তি কর্মসূচি একটি সামাজিক বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর প্রভাব দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পড়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বাড়াচ্ছেন। স্কাউটের জন্য বাজেট বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading