জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ আবারও আটকে দিল আদালত
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৫:২১
আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ উদ্যোগেও বাধা দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মেরিল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
মেরিল্যান্ডের জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান বলেন, ট্রাম্পের নতুন আদেশও আগের উদ্যোগের মতোই অসাংবিধানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত জুনে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এক রায়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।
ট্রাম্প গত ৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ বন্ধ করা। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিকদের আমেরিকায় গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা ঠেকানো।
আদেশটিতে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির বিদেশি নাগরিকের সন্তানকে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের সন্তান এবং নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তানও রয়েছে।
তবে বিচারক বোর্ডম্যানের মতে, এ ধরনের শিশুদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার রয়েছে। আদালতের লিখিত আদেশে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রেণির শিশুরা জন্মের সময়ই মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত।
আমেরিকার সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দেশটির ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পান। অবশ্য কূটনীতিকদের সন্তান বা কোনো আগ্রাসী বাহিনীর সদস্যদের সন্তানদের মতো কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে।
এর আগেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ আদালতে আটকে যায়। গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি বহাল রাখে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থা কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়টিও ছিল তার পরিকল্পনার অন্যতম অংশ।
ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের দাবি, অস্থায়ী ভিসায় থাকা কিংবা অবৈধভাবে আমেরিকায় অবস্থানকারী অভিবাসীদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী নয়। তবে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও কয়েকটি পরিবার এ অবস্থানের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নতুন উদ্যোগও আপাতত আদালতের নিষেধাজ্ঞায় আটকে গেল।
ইউডি/রেজা

