মানুষ বলছে আর কখনও বিএনপিকে ভোট দেব না: কর্নেল অলি আহমদ
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১০:০০
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আমার ৮৮ বছর বয়সে আমি কখনো শুনিনি, একটা সরকার গঠন হওয়ার পর লোকে বলে এই সরকার টিকবে না। মানুষ এটা কখন বলে? সারাক্ষণ দেখছি নারীরা, পুরুষেরা নিজের জুতা নিজের কপালে মারছে, বলছে আর কখনও বিএনপিকে ভোট দেব না।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অলি আহমদ বলেন, ‘আপনারা এত সকালে এখানে একত্রিত হয়ে আমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। আমি আমার এলডিপির পক্ষ থেকে, ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনাদের আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আপনারা এত সকালে যেভাবে এই বিশাল জনসভার আয়োজন করেছেন, এটা বাংলাদেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সম্ভব না।’
তিনি বলেন, তারেক রহমান সাহেব চেষ্টা করতে পারেন, দেখেন আপনার লোকগুলো ঘুম থেকে ওঠে কিনা। কারণ উনারা এবাদত করেন, অনেক দেরিতে ঘুমান।
এলডিপির সভাপতি বলেন, ‘ফখরুল সাহেব এই বিল্ডিংয়ের পিছনে রয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাড়। এখন ফখরুল সাহেব কী বলবেন?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেব যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বেগম জিয়ার অনুরোধে তাকে আমি তার নিজের এলাকায় নিয়ে গেছিলাম। আমি তার সম্বন্ধে বিশেষ কিছু বলি না, সবাই তাকে শিলং সালাউদ্দিন বলে নতুন একটা টাইটেল দিয়েছে। তিনি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, সুন্নত এবং কোরআনের বাইরে আমি কোনো কাজ করব না। এখন আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি আগের জায়গায় আছেন? থাকলে আমাদের সঙ্গে সমস্যাটা কোথায়?’
অলি আহমদ বলেন, ‘দেশ ভালো চালানোর জন্য ঈমানদার লোকদের বেছে নিতে হবে। বেইমান, মুনাফেক আর বিদেশি দালালদের দিয়ে দেশ চলবে না।’
১১ দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা কেন এখানে একত্রিত হয়েছি? আমরা বিভিন্ন মিটিংয়ে বলেছি, আপনি যদি জনগণের দাবি-দাওয়া মেনে না নেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনাকে বাধ্য করা হবে। সেটা হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে। আমরা আমাদের প্রথম রাউন্ড শেষ করেছি, দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু। এখনো বসে আছেন, সঠিক পথে চলেন। না হলে অন্যান্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পলায়ন করেছে, তাদের পথ আপনাকে অনুসরণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যারা আমাদের সঙ্গে যাবেন সবাইকে অনুরোধ করবো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে লং মার্চ করবো। কারণ আমরা সন্ত্রাসী দল নই। আমরা রিজওয়ানার দল নই। রিজওয়ানার দল বুঝছেন তো? আমরা সত্যিকার অর্থে মুসলমানের দল। সবাই কোরআন-সুন্নাহ মেনে চলে, আল্লাহর আইন মেনে চলে, সুশাসন মেনে চলে।’
অলি আহমদ বলেন, ‘আমাদের মিছিল হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল। আপনার, আমাদের গন্তব্যে পৌঁছার পথে যদি কেউ বাধা সৃষ্টি করে, সেটা অধিকতর শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।’
তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে এখানে আমরা মেজবান খেতে আসছি, এটা না। আমরা মেজবান খাইতে আসিনি। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আসছি এবং সেটা ইনশাআল্লাহ আমার নবীর দয়ায় আমরা প্রতিষ্ঠা করব।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন করা হয়, ছয় মাস যেতে পারেনি। এখনই কেন আপনারা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোরতার পথ অবলম্বন করছেন? আমরা বলতে চাই, সরকার তার যাত্রার শুরুর ছয় মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘জাতি খলিফা ওমরের মতো মানুষকে ভুল করলে একচুল পরিমাণ ছাড় না দেওয়ার শপথ গ্রহণ করেছেন, সেই জাতির ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চান, হাতে ধরে, পায়ে ধরে বলব। এরপরেও যদি সঠিক পথে না আসেন, গলা ধরতে একচুল পরিমাণ আমাদের হাত কেঁপে উঠবে না ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘লং মার্চের মধ্য দিয়ে আমরা সে বার্তা দিতে শুরু করেছি। আমাদের বার্তা যদি শুরুতেই বুঝতে পারেন, সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। আর না হয় আপনাদের জন্যও সেই পরিণাম অপেক্ষা করছে, যেই পরিণাম জাতিকে অপমান করা প্রতিটি স্বৈরশাসকের জন্য অপেক্ষা করেছিল।’
ইউডি/কেএস

