সংসদ কার্যকর থাকা অবস্থায় রাজপথে লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী: স্বপন
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৬:০৫
জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকা অবস্থায় সংসদীয় বিতর্ককে দ্রুত রাজপথের আন্দোলনে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তার মতে, সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ থাকার পরও আন্দোলনের নামে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’-শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস (বিসিএআই)।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার দায়িত্ব বিরোধী দলের। কিন্তু সংসদের ভেতরের বিতর্ককে অপ্রয়োজনে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চাকে দুর্বল করে।
এসময় তিনি আরও বলেন, সংসদীয় রাজনীতিকে কার্যকর রাখতে বিরোধী দলকে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিতে হবে। শুধু সরকারকে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে সংসদীয় রাজনীতি পরিচালনা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।
লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এসব কর্মসূচি কতটা বিবেচনা করে দিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি অপেক্ষায় থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে জহির স্বপন বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী চর্চা আর দুর্বল সামাজিক কাঠামো এবং অর্থনীতির সংকট থেকে দেশকে বের করে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। সংকটের গভীরতার কারণে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার নীতিগত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার দাবি, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর নীতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতগুলোতে চাপ তৈরি হয়েছে। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা সরকার প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি। এটি শুধু দুর্নীতির বিষয় নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
বর্তমান সরকার সংকটের দায় এড়িয়ে না গিয়ে বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক করতে আমদানির ক্ষেত্রে নতুন উৎস তৈরির পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান জহির উদ্দিন স্বপন। চীন ও ভারতের বাইরে নতুন বাজার ও সরবরাহ উৎস তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। আলোচনা সঞ্চালনা করেন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত। এতে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা বক্তব্য দেন।
গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক ও গঠনমূলক আলোচনা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতার চর্চাকে আরও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউডি/কেএস

