হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: তথ্য উপদেষ্টা

হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: তথ্য উপদেষ্টা

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৩:৫৯

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ইন্ডিয়ায় পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে একজন পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও তার নেই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন তা সঠিক নয়। ইন্ডিয়ার ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে—সরকারের এমন কোনো কৌশল নেই। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।

উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা, আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, তার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে এসে আপিল করে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, টেকনিক্যালি এখন এরকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় বলেও জানান তিনি।

ইন্ডিয়ায় অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত শেখ হাসিনা যেন এভাবে গণমাধ্যমে কথা বলতে না পারেন—ইন্ডিয়া সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ এমন পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল।

উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য ‘আনএক্সপেক্টেড’। ইন্ডিয়ায় তার বর্তমান অবস্থান ও তিনি কী ধরনের অধিকার ভোগ করতে পারেন, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি স্ট্রং। তিনি নিজে দেশে আসুন অথবা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক—দুই ক্ষেত্রেই তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সম্পর্কের উন্নয়নে ইন্ডিয়া সরকার চাইলে তাৎক্ষণিক একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, শেখ হাসিনাকে ইন্ডিয়ান গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা এমন একটি পদক্ষেপ হতে পারে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ইন্ডিয়ান গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়, তা ইন্ডিয়া সরকারের বোঝা উচিত।

দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, ইন্ডিয়া বাংলাদেশে সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায়—এ বিষয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে আশ্বস্ত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নিয়েও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা মাফিয়া দল। অভিনেত্রী বাঁধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া আমেরিকার কাছ থেকে নতুন বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে কোনো অর্থনৈতিক চাপ নেই বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। এয়ারবাস কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, বিমান কেনাকাটার ক্ষেত্রে বাইরের কোনো চাপ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। রাজধানীতে কিছুটা লোডশেডিং সবাইকে মেনে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় শহর এবং এখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় বিদ্যুতের ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে বলেও জানান। তিনি বলেন, ঢাকাকে একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখব’—এমন ধারণা থেকে সরকার সরে আসছে। এ কারণে ঢাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ পূর্ণ বছর ছিল ২০২৩। ওই বছরের জুনে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। ২০২৬ সালের জুনে তা ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে গড়ে লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে গ্যাসসংকটকে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি আর থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading