গাজীপুরে কেয়া গ্রুপে বড় ছাঁটাই, একসঙ্গে চাকরি হারালেন ৬২৭ শ্রমিক
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৮:১৫
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ৬২৭ শ্রমিক ও কর্মচারী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কারখানা এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কাজে যোগ দিতে এসে চাকরি না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন অনেক শ্রমিক। সোমবার সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে চাকরি হারানো শ্রমিকেরা কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। দীর্ঘদিনের চাকরি হারিয়ে অনেকে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক মোসাম্মৎ শিল্পী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কারখানার সুইং সেকশনে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কারখানার পরিস্থিতি ভালো না থাকায় বেতনও বকেয়া হয়েছে। সংসারের খরচ, বাসাভাড়া ও সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় নিয়ে এমনিতেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এর মধ্যে সকালে কাজে এসে চাকরি না থাকার খবর পান তিনি।
আরেক শ্রমিক জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। অথচ আগে থেকে কোনো ধরনের খবর না পেয়ে সকালে এসে চাকরি হারানোর বিষয়টি জানতে হয়েছে। বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য পাওনা কীভাবে পাবেন, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত মোট ৬২৭ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কেয়া গ্রুপ কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাইসংক্রান্ত নোটিশের একটি কপি শিল্প পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নোটিশে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর কারণ হিসেবে ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে বিভিন্ন বিভাগ ও সেকশন থেকে কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আইনানুগ সব পাওনা সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
ইউডি/রেজা

