সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ২৩:৫৫
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় থাকা কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা বলে ধরে নেওয়া হবে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরসহ কয়েকটি এলাকায় হুথিদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। পাকিস্তান এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের ওপর সরাসরি আঘাত।
এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে খাজা আসিফ বলেন, ইয়েমেনের সংঘাত যদি সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে বা কোনো উসকানিবিহীন হামলা হয়, তাহলে চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই। এটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার অঙ্গীকার পূরণ করবে।
তবে আসিফ একথাও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়। তিন দেশ মিলে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য এটা তৈরি হয়নি। বরং কোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তার পাশে দাঁড়াবে, এটাই মূল উদ্দেশ্য।
হুথিদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ লড়াই দেশের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। হুথিরা যদি সংঘাত সৌদি আরবের দিকে টেনে নিয়ে যায়, তাহলে চুক্তির প্রতিরোধ ধারাগুলো সক্রিয় হয়ে যেতে পারে।
আসিফের মতে, চুক্তির আরেকটা বড় লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো। মানে হামলা হলেই পাল্টা হামলা করতেই হবে, এমন কথা নেই। তিনি বলেন, ইটের জবাব পাথর দিয়ে দিতেই হবে, এমন নয়। তিনটি সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশের এই জোট নিজেদের সক্ষমতা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে। তাই চুক্তিটা নিজেই হামলাকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইউডি/এবি

