ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় হত্যা করা হয় নিঝুমকে: পুলিশ

ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় হত্যা করা হয় নিঝুমকে: পুলিশ

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৪:২৭

ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় পরিকল্পনা করে ওয়াহেদ হোসেন নিঝুমকে (৩৭) হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিহতের বন্ধু নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানায় পুলিশ।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‍“তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে নাজিম ও স্বপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।”

গত ১২ আগস্ট বগুড়া শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিরপাড় এলাকায় একটি ধান ক্ষেত থেকে নিঝুমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। পরে নিঝুমের স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। নিঝুম বগুড়া মহানগরের সুত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং স্টেশন সড়কে তার বাবার সঙ্গে ফলের আড়ৎ পরিচালনা করতেন।

পুলিশ জানায়, নিঝুমের ভাই সোহেল হোসেন বগুড়া সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নাজিমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তার বন্ধু স্বপনও জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিঝুম স্টেশন সড়কে তার বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। নাজিম ও স্বপন একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। তাদের সঙ্গে নিঝুমের বন্ধুত্ব ছিল। কিছুদিন আগে নিঝুম তার মায়ের নামে ওই বেসরকারি সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা স্বপনকে এবং এক লাখ টাকা নাজিমকে ধার দেন। পরে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম বলেছেন, ওই বিরোধের জেরে নিঝুমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি ও স্বপন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট নিঝুমকে মালগ্রাম এলাকার ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নাজিম তার মোবাইলে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খোঁজেন। এরপর কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে নিঝুমকে পান করানো হয়। কিছুক্ষণ পর নিঝুম মারা গেলে রাতে তার মরদেহ বস্তায় ভরে কার্যালয় থেকে কিছু দূরের একটি ধান ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।

পরদিন ৮ আগস্ট সকালে নাজিম ও স্বপন তাদের কর্মস্থল থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিঝুম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধান ক্ষেত থেকে বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন লাশটির পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে স্বজনেরা মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর নিঝুমের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে নাজিম ও স্বপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।”

বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, “নাজিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের আগে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খোঁজার কথা জানিয়েছেন। হত্যায় ব্যবহৃত দ্রব্য, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং স্বপনের ভূমিকা সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।”

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading