রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৫:১৭

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, একইভাবে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজিও কঠোর হাতে দমন করা হবে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি দমনের পথে বিএনপির কোনো নেতা বাধা হয়ে দাঁড়ালেও তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধীদের ছাড় পাওয়ার কারণ হতে পারে না।

নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।

বাক্‌স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার মানুষের মতপ্রকাশ, কথা বলা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহনণের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে আসছে।

সাইবার আইন ২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিল। মানুষের বাক্‌স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাবকমিটিতে পাঠান।

পরে সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে ঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। এ কারণে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিচার বিভাগের সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক ও শহীদ মাহমুদ হোসেনসহ কয়েকজন বিচারকের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, সরকার এখন বিচারব্যবস্থা মেরামতের কাজ করছে। এ কাজে সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি সবার সহযোগিতা ও আস্থা কামনা করেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার প্রতিশোধের রাজনীতির পথে না গিয়ে জনগণের সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকারি দলের নেতা-কর্মীদেরও এ নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা ও দায়রা জজ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বিচার বিভাগের স্থানীয় বিভিন্ন সংকটের কথা শোনেন এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ ভাগে বিকেল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে আইনমন্ত্রীর।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading