দুই-একজন ‘মাস্তানের’ জন্য ওয়ার্ডের মানুষ কষ্ট পায়: কাদের

দুই-একজন ‘মাস্তানের’ জন্য ওয়ার্ডের মানুষ কষ্ট পায়: কাদের

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ২৫ অক্টোবর ২০১৯

ঢাকার ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়ন হচ্ছে ঠিক, কিন্তু আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে ‘কিছু মাস্তানের’ জন্য এলাকার মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে কাদের বলেন, “উন্নয়নের সঙ্গে আচরণ যদি ভালো না হয়, এই উন্নয়নের কোনো দাম নেই। একটি ওয়ার্ডে সব উন্নয়ন হয়েছে, সেখানে দুই-একজন মাস্তানের জন্য মানুষ কষ্ট পায়। দুই-একজন মাস্তান দলীয় পরিচয়ে মাস্তানি করে। এরাই অনুপ্রবেশকারী, এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”

সাম্প্রতিক ‘শুদ্ধি’ অভিযানে দুর্নীতির অভিযোগে দুজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগের নেতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরুর আগেই কয়েকজন দেশের বাইরে চলে গেছেন।   

প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। এখন বিতর্কিত লোক এনে যদি পকেট ভারী করেন, দল ভারী করেন, দলের দুঃসময়ে হাজার পাওয়ারের বাতি দিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, বিতর্কিত লোকদের নিয়ে দল করবেন না।”

বিএনপির আমলে দুর্নীতি করলেও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “হাওয়া ভবনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সব অপকর্ম হয়েছিল। একজন অপরাধীকেও তখন বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

“এখন আমরা সাংগঠনিকভাবেও ব্যবস্থা নিচ্ছি, প্রশাসনিক ভাবেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা এখন অপকর্মকারীকে আইনের আওতায় আনছি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হয়েছে। বিএনপি আমলে দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের লোকজনের দুর্নীতি বিষয়ে নির্বিকার ছিল। কোনো মামলা তখন হয়নি।”

বিএনপির সময়ে সরকারি দলের লোকজনের, অপকর্মকারী চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কারও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি মন্তব্য করে কাদের বলেন, “মির্জা ফখরুল সাহেব, আপনারা একটা উদাহরণ কি দেখাতে পারবেন? কোনো অপরাধীকে শাস্তি দিয়েছেন?”

চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’ বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দাবি করে সরকারের সেতুমন্ত্রী বলেন, “শেখ হাসিনার সৎ সাহস আছে, সংশোধন করার সৎ সাহস শেখ হাসিনার আছে। আমার দলের কোনো নেতাকর্মী ভুল করলে, অপকর্ম করলে শাস্তি তাকে পেতেই হবে।”

নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের প্রশংসা করতে বিএনপি ‘কুণ্ঠিত’ বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “বিএনপির সময়ে দলের লোকজন থাকলে মামলা করতেই পারত না। আর সোনাগাজীর নুসরাতের ঘটনায় আমাদের দলের লোকজনও আছে এবং তাদেরও ফাঁসি হয়েছে।”

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ জনের ফাঁসির রায় হলেও ওই এলাকার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনায় প্রশ্ন তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “পুলিশের কী হল- এ নিয়ে মির্জা ফখরুল আবোল-তাবোল বকছেন। কিন্তু এত দ্রুত একটা মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে, ১৬ জনের ১৬ জনকেই ফাঁসির রায় হয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।”

সম্মেলন ও সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেন সাধারণ সম্পাদক কাদের। 

তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় কাউন্সিল আসছে। আওয়ামী লীগ নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটা সুশৃঙ্খল-সুসংগঠিত দল। আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই কিছু নতুন মুখ আসবে। পুরনোদের কারও কারও দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। … এখানে অভিজ্ঞতাও দরকার, সঙ্গে শক্তিরও দরকার।”

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে থাকুন। নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে তারিখ আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব।”

ঢাকায় আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন ‘চ্যালেঞ্জিং’ হবে মন্তব্য করে কাদের বলেন, “প্রতিপক্ষ আঁটঘাট বেঁধে নির্বাচনে নামবে। তারা ঐক্যবদ্ধ হলে অনেক শক্তি আছে তাদের।”

নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষকে দুর্বল মনে করবেন না। প্রতিপক্ষ আর কিছু না পারুক, ষড়যন্ত্রে ওস্তাদ; বিএনপি ষড়যন্ত্রে ওস্তাদ। আপনারা থানায় থানায়, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মী সভা করেন। সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে।

“মাঝে মাঝে আমাদের জোটের মধ্য থেকেও কেউ কেউ উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। আমি বলতে চাই সরকারের অস্থিত্ব কেউ দুর্বল ভাববেন না।”

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সভায় বক্তব্য দেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading