দুই নেত্রীর মধ্যে ‘আকাশ-পাতাল পার্থক্য’ দেখছেন মেয়র নাছির
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ২৫ অক্টোবর ২০১৯
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ২৫ অক্টোবর ২০১৯ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক আলোচনা করে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, দুই নেত্রীর মধ্যে ‘আকাশ-পাতাল পার্থক্য’ রয়েছে।
এই বক্তব্যের পেছনে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অপরদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে এখন সাজা ভোগ করছেন।

শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর বান্ডেল রোড হরিজন সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বান্ডেল এস কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। যুব সমাজকে রক্ষায় ‘মাদককে না বলুন’ স্লোগান নিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মেয়র নাছির বলেন, “আজকে যে আমি এসেছি এখানে হয়ত অনেকে বলেন- না, যাইয়েন না এখানে। কিন্তু কে করছে সেটা বিষয় না। ভালো কাজ হলে আমি যাব। আরেকটা বিষয় এখানে কেউ যদি আমাকে ভুল ধারণা দিয়ে করে থাকে…। হয়ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বা মাদকের সাথে জড়িত। কিন্তু আমাকে ভুল ধারণা দিয়ে, আমি নাই বলে করলে… এখানে তো পার পাওয়া যাবে না।
“কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা… ওই জিকে সেলিমও তো (জিকে শামীম) পত্রিকায় দেখেছেন ছবি একটা কোনো এক সময়, কোনো একটা অনুষ্ঠানে তো তুলে রেখেছিল। তো সে কি পার পেয়েছে? পার পাবে না।”
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির বলেন, “আমাদের বড় বড় নেতারা কি পার পাচ্ছে? উনারা তো বড় বড় নেতাদের সাথে অহরহ ছবি তুলেছিল। বা উনারা আত্মীয়স্বজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন? আমার পরিবার সাতজনের। আমি, আমার দুই সন্তান, আমার বোন শেখ রেহানা, তার তিন সন্তান। এই সাতজন হল যে, আমার পরিবার। এর বাইরে আর আমার কোনো পরিবার নেই। তাহলে আত্মীয়-স্বজন তো আছে, পার পাচ্ছে? পার পাচ্ছে না।
“অপরাধ করলেই পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। এক সময় ছিল, এখন নাই। এখন দেশ আগাচ্ছে। এখানে সুশাসন যেটা এটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এবং সেটা ২০৩০ এর মধ্যে।” নাছির বলেন, “বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একেবারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছেন। এবং সেটি মুখে বলে নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা অন্তরে ধারণ করেন অর্থাৎ বিশ্বাস করেন সেটাই কিন্তু উনি বাস্তবায়ন করেন।
“আগের আরেক নেত্রীকে কী দেখেছি? মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বলেছেন। কিন্তু পুরোপুরিভাবে শতভাগ উল্টো কাজটি করেছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। ভুল ধারণা দিয়েছিলেন, মিথ্যাচার করেছেন।” সিটি মেয়র নাছির বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুই সন্তান দেখেন সারা বিশ্বে পরিচিত। উনাদের মেধার দ্বারা, যোগ্যতার দ্বারা, কর্মের দ্বারা। সারা বিশ্ব তাদের চেনে। আর আরেকজন নেত্রীর কী? একজন যিনি (তারেক রহমান) আছেন দুর্নীতিবাজ, আজকে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার উনি বলেন উনি রাজনীতি করেন, ওই দলের নাকি প্রধান।
“তো রাজনীতি করলে, উনার সৎ সাহস থাকলে দেশে আসবেন। জেলে যাবেন। মামলা লড়বেন। আবার মামলার মাধ্যমে উনি যদি নিজেকে নিরাপরাধ প্রমাণ করতে পারেন বেরিয়ে আসবেন। সাজা তো অনেকের হয়। আইনের প্রতি যদি উনার শ্রদ্ধা থাকে তাহলে তো দেশে চলে আসতেন।”
তারেক রহমানের সমালোচনা করে নাছির বলেন, “নিরাপদ থেকে, আরাম-আয়েশে থেকে, এখান থেকে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয় দেশের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে। তারপর দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছেন। এই হলো উনার কোয়ালিটি।
“আর নিজের যোগ্যতা কী? দেশকে কিছু দিতে পেরেছে? কিচ্ছু দিতে পারেনি। উপরন্তু জঙ্গি সৃষ্টি করেছেন। এদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র করতে চেয়েছেন। কারণ উনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন না। স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না।”
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে নাছির বলেন, “এই নেত্রী দুর্নীতি করেছেন, জেল খাটছেন। এটা রাজনীতির কারণে জেল খাটছেন না, দুর্নীতির কারণে জেল খাটছেন। আকাশ আর পাতাল পার্থক্য আামাদের নেত্রী আর ওই নেত্রীর। “প্রধানমন্ত্রী দূর দৃষ্টি সম্পন্ন সরকার প্রধান। আগামী একশ বছরের জন্য ডেল্টা প্ল্যান করেছেন। এ কারণে মানুষের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছে।”
হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণ-যুবকদের নেশা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামের মেয়র বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হবে। মীরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। লেখাপড়া করে তৈরি হোন। হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
“আমি রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রতিকূলতা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে…। আমি যে পরমুহূর্তে বেঁচে থাকব, সে নিশ্চয়তা আমার ছিল না। বছরের পর বছর। সে ধরনের কঠিন সময় পার করেছি। কই তখন তো একটা পানও খাই নাই, সিগারেটও খাই নাই। হতাশার কারণে নেশাদ্রব্য খেতে হবে, এর সাথে শতভাগ ভিন্নমত পোষণ করি।” হরিজন কলোনিতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের কথা উল্লেখ করে নাছির বলেন, “আপনারা সুখে থাকুন শান্তিতে থাকুন এটা প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া। আপনাদের ভালোর জন্য বলছি। আপনাদের সন্তানদের কেউ হয়ত কোনোভাবে মাদকের সাথে জড়িত। এটা আপনারা মায়েরা জানেন। মায়েরা-বোনেরা পারেন। তাদের বুঝান। ভালো পথে ফিরিয়ে আনেন।
“যদি মনে করেন নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করানো প্রয়োজন। আমি ব্যক্তিগতভাবে করব, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে করব।” উত্তম দাশের সভাপতিত্বে ও জীবন দাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, হরিজন সর্দার মায়াদিন, কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মহসীন উপস্থিত ছিলেন।

