নেপালের সঙ্গে পিটিএ সইয়ে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ২৬ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:১০
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সই করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজারবাইজানে অষ্টাদশ ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার বাকু কংগ্রেস সেন্টারে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই চুক্তি করার ওপর জোর দেন তিনি।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক আলোচনার বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) বলেছেন যে, পিটিএ ইস্যুটা অনেক দিন নেপালের কাছে আছে। ওই পিটিএটা শেষ করে ফেললে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়বে।”
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ খুবই কম। কাঠমান্ডু পোস্টের খবর অনুযায়ী, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে নেপাল বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করেছে ৩৫২ কোটি নেপালি রুপির। বিপরীতে নেপাল বাংলাদেশে পণ্য পাঠিয়েছে ১৯১ কোটি রুপির।
শহীদুল হক বলেন, “দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনায় প্রধানত বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি আর বিবিআইএন- এই তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
“বাণিজ্য বৃদ্ধি কীভাবে করা যায়, বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল-বিবিআইএন। যদি ভুটানের এখন অসুবিধা হয়, তিন দেশ মিলে করে ফেলতে পারে। ওরাও (নেপাল) রাজি আছে।
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, বিষয়টি ইন্ডিয়ার সাথে আমি উত্থাপন করেছি। তোমরাও উত্থাপন করো। আমরা এটা কার্যকর করে ফেলি।”
ছবি: পিআইডিযোগাযোগ বাড়িয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই মূলত বিবিআইএন কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। চার দেশের মধ্যে বিবিআইএন মোটর ভেহিকেলস চুক্তি হয়েছে। কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কায় ভুটান এই চুক্তি বাস্তবায়নে অনীহা দেখিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ ও নেপালের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
শহীদুল হক বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতায় যে প্রাধান্য, সবাই মিলে শান্তি বজায় রাখতে হবে। এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।”
নভেম্বরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নেপাল সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিয়ে গড়ে ওঠা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-ন্যামের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার বাকু এসেছেন শেখ হাসিনা।
শনিবার সকালে বাকু কংগ্রেস সেন্টারে ন্যামের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেন শেখ হাসিনা। দুপুরে বাকুতে আজারবাইজানের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যোগ দেন এবং একটি সেশনে বক্তব্য দেন। সম্মেলনের ফাঁকে ইরান ও আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।
সন্ধ্যায় তিনি যোগ দেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের দেওয়া নৈশভোজে।

