বরিশালের মাটিতে মরুর ফল সাম্মান

বরিশালের মাটিতে মরুর ফল সাম্মান

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৫ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:০২

নতুন কিংবা বিদেশি ফল উত্পাদন করলে এর চাহিদা ভালোই থাকে। পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়া যায়। দাম ভালো পাওয়া গেলে কৃষক সেটা চাষাবাদেও আগ্রহী হয়। এমনই একটি ফল সাম্মান। মরুভূমির ফল হিসেবে পরিচিত সাম্মান এখন বরিশালে চাষ হচ্ছে। পতিত জমিতে সাম্মান চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক লিটু সরদার। এ ফল চাষ লাভবান হওয়ায় তার দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও সাম্মান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। লিটু সরদার বলেন, ৫০ শতাংশ পতিত জমিতে সাম্মানের দু’টি জাতের বীজ রোপণ করেন। দেড় মাসের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মধ্যেই ফল পাকতে শুরু করে। একটি সাম্মানের বাইরে সবুজ আর ভেতরে লাল। আরেক জাতের সাম্মানের বাইরে হলুদ এবং ভেতরের অংশ হালকা লাল। দু’টি ফলই খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। নিজের সাম্মান ক্ষেতে লিটু সরদারতিনি বলেন, নতুন জাতের ফল উত্পাদনের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাগান থেকে ফল কিনতে শুরু করেন। বর্তমানে দেড়শ’ টাকা কেজি দরে ফলটি বিক্রি হচ্ছে। একটি সাম্মান আড়াই থেকে ২ কেজি পর্যন্ত হয়েছে, যা বাজারে ২২০-২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে খুচরা বিক্রেতা। তিনি আরও বলেন, নতুন নতুন ফল উত্পাদন করলে চাহিদা যেমন বেশি থাকে, তেমনি লাভও ভালো হয়। শুধু সাম্মান চাষ করেই ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। এ ফলের চাহিদা দেখে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আসছেন সাম্মান চাষের বিষয়ে জানতে। এর মধ্যে ১৮-২০ জন কৃষক তার কাছ থেকে খবরা-খবর নিয়েছেন। কাঁচা অবস্থায় সাম্মানলিটুর ছেলে হূদয় বলেন, সাম্মান চাষে তাদের তেমন বেগ পেতে হয়নি। বীজ রোপণের পর থেকে পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিতে হয়েছে। এছাড়া সময়মতো জৈবসার দেওয়া হয়। এভাবে তিন মাস যেতে না যেতেই ফল পেকে যায়। বাবাকে কৃষি কাজে ভালোভাবে সাহায্য করতে তিনি কৃষি ডিপ্লোমায় পড়ছেন। তার বোনও একই বিভাগে পড়াশোনা করছে। এ ব্যাপারে মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা ফাহিমা হক বলেন, অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা নতুন নতুন ফসল উত্পাদনে আগ্রহী হচ্ছেন। তাদের নিয়ে কৃষি বিভাগ সভা-সেমিনার থেকে শুরু করে যারা মাঠ পর্যায়ে এ ধরনের নতুন ফসল উত্পাদন করছেন তাদের বাগান পরিদর্শন করাচ্ছেন। স্বল্প খরচে কীভাবে নতুন ফসল উত্পাদন করে তা থেকে ভালো দাম পাওয়া যায় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের নতুন ফসলের বীজ ক্রয়ে সহায়তা করছে। তিনি আরও বলেন, মৌসুমি ফসল চাষাবাদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লিটু নতুন নতুন ফসল চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। এবার চাষ করেছেন সাম্মান। এভাবে নতুন ফসল চাষে কৃষকরা এগিয়ে এলে স্বল্প সময়ে ভালো টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। এর মাধ্যমে মৌসুম ছাড়াই ফসল উত্পাদনে বড় একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে দেশে। তার জানা মতে বরিশাল জেলায় এই প্রথম সাম্মান উত্পাদিত হলো। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৬ সালে হলুদ জাতের তরমুজ উত্পাদন করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন লিটু সরদার। এরপর থেকেই নতুন ফসলের প্রতি আগ্রহ জন্মে তার। তার দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও নতুন ফসলের আগ্রহ বাড়ছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading