রোগের আভাস দেয় নিঃশ্বাসের গন্ধ
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৯ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১৭:৫৮
প্রায় প্রত্যেক মানুষের মুখের নিজস্ব গন্ধ থাকে। কিন্তু আপনি কি মাঝে মধ্যে নিজের নিঃশ্বাসের গন্ধ পরীক্ষা করেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন নিঃশ্বাসের কিছু নির্দিষ্ট গন্ধ আপনার শরীরিক সমস্যা বা রোগের ইঙ্গিত দেয়। আমাদের জিহ্বার পেছনের অংশ, গলা ও টনসিলে থাকা অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া মুখের বেশিরভাগ দুর্গন্ধের জন্য দায়ী। আমরা যে খাবার খাই, তার প্রোটিন ভেঙ্গে নিজের খাবারে পরিণত করে এই ব্যাকটেরিয়া। কিন্তু কোনো মানুষ যদি রোগাক্রান্ত হন, তাহলে ঐ ব্যাকটেরিয়া তার কাজ ঠিকভাবে করতে পারে না। ফলে ওই ব্যক্তির মুখে নির্দিষ্ট রাসায়নিকের গন্ধ তৈরি হয়। আপনার কোনো রোগ হলো কি না, প্রাথমিকভাবে বুঝতে নিঃশ্বাসে কোন ধরনের গন্ধ আছে তা বোঝার চেষ্টা করুন।
নিঃশ্বাসে ঝাঁঝালো গন্ধ হলে: আপনার মুখ থেকে যদি পিয়ার ড্রপ (এক ধরনের মিষ্টান্ন) বা অ্যামোনিয়ার গন্ধ বের হয়, তাহলে ধরে নিতে পারেন টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে ভুগছেন আপনি। ইনসুলিনের অভাবে, শরীর চিনিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে না পেরে চর্বি ভেঙ্গে ফেলে। ফলে কিটোন নামের রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয়, যা মুখে ও ইউরিনে ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরি করে। যদি প্রচুর তৃষ্ণাবোধ থাকে, খুব ক্লান্তবোধ করেন, কোনো কারণ ছাড়া ওজন কমতে থাকে, ঘন ঘন পস্রাব হয়, তাহলে ইউরিন পরীক্ষা করিয়ে ডায়াবেটিস আছে কিনা নিশ্চিত হোন।
নিঃশ্বাসে টক দুধের গন্ধ হলে: আপনি যদি হাই প্রোটিন খাবার বেশি খান, কার্বোহাইড্রেট খাদ্য তালিকায় না থাকে, তাহলে মুখে টক দুধের মতো অস্বস্তিকর গন্ধ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে দাঁত বেশি ব্রাশ করা বা মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে সমস্যা দূর হবে না। আপনাকে বেশি কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেতে হবে।
নিঃশ্বাসে পঁচা মাংসের গন্ধ হলে: যখন টনসিল সংক্রমিত হয়, তখন জিহ্বার পেছনে থাকা অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া খাবারের ক্যামিকেল সহজে ভাঙ্গতে পারে না। টনসিলের মধ্যে সালফার তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা টনসিল সংক্রমিত হলে খাবারের ক্যামিকেল ভাঙতে পারে না। সে সময় সালফারের গন্ধ মুখ থেকে নির্গত হয়। অনেকটা বিরল হলেও এই গন্ধ কিছু ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিসেরও ইঙ্গিত দেয়।
নিঃশ্বাসে বিষ্ঠার গন্ধ হলে: নষ্ট হওয়া দেহকোষ অনেক সময় মল বা বিষ্ঠার মতো গন্ধ ছড়ায়। অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া এজন্য দায়ী। আর এই গন্ধ মাড়ির সংক্রমণের জন্য হয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি মাড়ির সংক্রমণ হয় বলে তারা জানান। দিনে দুই বার সতর্কতার সাথে দাঁত ব্রাশ করা উচিত। নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া উচিত প্রত্যেকের। তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
সতর্কতা: লেখাটি মূলতঃ প্রাথমিক তথ্য ভিত্তিক। চিকিত্সা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে রেজিস্টার্ড চিকিত্সক/পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত্।

