সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্ত কি অনন্তকাল চলবে – হাইকোর্ট
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১২ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২২
বহুল আলোচিত সাগর-রুনি হত্যা মামলায় দীর্ঘ আট বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় তদন্ত সংস্থা র্যাবের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, তাহলে কি এটি চাঞ্চল্যকর মামলার তালিকাতে থেকে যাবে? অনন্তকাল ধরে এ মামলার তদন্ত চলতে থাকবে?
আদালতের নির্দেশে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হলে গতকাল সোমবার (১১ নভেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। আদালতে হাজির হয়ে র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খোন্দকার শফিকুল আলম বলেন, ‘এখনও তদন্ত চলমান। এই মামলার জব্দকৃত আলামত ডিএনএ টেস্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।’ তখন আদালত বলেন, ‘তাহলে কি ডিএনএ টেস্টের রেজাল্টের ওপর মামলার ভবিষ্যত নির্ভর করছে?’ এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন। আদালত বলেন, ‘৮ বছর পার হয়ে গেল এখনও এ মামলার তদন্ত শেষ হলো না।
এদিকে এ মামলার কারণে সন্দেভাজন হিসেবে গ্রেফতার হয়ে জামিনে থাকা তানভীর রহমান বিয়ে করতে পারছেন না’ বলেও মন্তব্য করেন আদালত। আদালত বলেন, ‘যখনই শোনে সাগর-রুনি মামলার আসামি তখন তো কেউ বিয়ে দিতে চায় না। এ অবস্থায় আমরা কি করতে পারি?’ প্রশ্ন রাখেন আদালত।
তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী আদালতে বলেন, ‘আপনারা তদন্ত শেষ করতে একটা সময়সীমা বেঁধে দিতে পারেন।’ তখন হাইকোর্ট হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘৮ বছরেও মামলার তদন্ত শেষ হলো না। এক মাসে আর কী হবে?’ এরপর আদালত এ মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেন।
সাগর-রুনী হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হওয়া তানভীর রহমানের নাম বাতিল চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২০ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সন্দেহভাজন আসামি তানভীর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। পরে আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, ‘এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি তানভীর রহমান ২০১৪ সালে নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান। এরপর থেকে তিনি জামিনে থাকলেও প্রতি শুনানির তারিখে তাকে আদালতে হাজির হতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এ অবস্থার মধ্যে কোনো মানুষ চলতে পারে না। দীর্ঘদিন মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় জীবনযাপন করছেন তিনি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়।’

