বাবরি মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের রায় ইন্ডিয়ার আদালতের

বাবরি মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের রায় ইন্ডিয়ার আদালতের

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১২ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২৪

ক্ষুব্ধ মুসলিমদের সিদ্ধান্ত ২৬ নভেম্বর বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছে ইন্ডিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। এ রায়ে ক্ষুব্দ মুসলমানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রায় মেনে নেওয়ার কথা বললেও এ নিয়ে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। তারা বলেছেন, রায়ে এটি স্পষ্ট যে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় মুসলমানদের জন্য আইনি সহায়তা খুবই সীমিত। স্বাভাবিকভাবেই সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে না তারা। অপরদিকে, ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের বদলে অন্যত্র মসজিদ নির্মাণের জন্য আদালত যে ৫ একর জমির প্রস্তাব দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এমপি। তিনি বলেছেন, দানের জমি মুসলমানদের প্রয়োজন নেই। আর সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড জানিয়েছে, ওই জমি নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়ে আগামী ২৬ নভেম্বর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তারা। উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের সভাপতি জাফর ফারুকী জানিয়েছেন, ওই জমির বিষয়ে নানা ধরনের মতামত পাচ্ছেন তিনি। আগামী ২৬ নভেম্বর বোর্ডের সাধারণ সভায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে পাঁচ একর জমি নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, যদিও ১৩ নভেম্বর ওই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল, পরে সেটা স্থগিত হয়ে যায়। ২৬ নভেম্বর যে বৈঠক হবে সেখানে এই জমি গ্রহণ করা হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জমি নেওয়ার বিষয়ে আমি বিভিন্ন মতামত পাচ্ছি। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় একমাত্র ইতিবাচক মানসিকতার মাধ্যমেই যাবতীয় নেতিবাচক বিষয়কে দূরে সরানো সম্ভব। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি এমন পরামর্শ দিচ্ছেন যে, বাবরি মসজিদের জন্য ওই ৫ একর জমি নেওয়া উচিত নয়। তবে আমি মনে করি- এই ধরনের ভাবনা আসলে নেতিবাচকতাই বাড়াবে। বাবরি মসজিদ ইস্যু সমাধানের জন্য মধ্যস্থতার পক্ষে ছিলেন উল্লেখ করে ফারুকী বলেন, মধ্যস্থতা সফল না হলেও আমার মতামত পরিষ্কারভাবে দিয়েছি আমি। তিনি বলেন, আবার কিছু মানুষ এমন পরামর্শও দিচ্ছেন যে, ওই জমিটি ওয়াকফ বোর্ডের তরফ থেকে গ্রহণ করা উচিত এবং সেখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়া উচিত, যেখানে একটি মসজিদও স্থাপন করা হবে। জাফর ফারুকী বলেন, যতদূর মনে হচ্ছে জমি সম্পর্কিত ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসরণ করতে হবে। উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের  সভাপতি বলেন, আমরাই সিদ্ধান্ত নেবো, ওই জমি আমরা নেবো কি নেবো না। শেষ পর্যন্ত জমি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা কিভাবে নেওয়া হবে এবং এর অবস্থা কী হবে; এই বিষয়গুলোতেও আমরা সেদিনই সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি বলেন, আমরা এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। বোর্ডের তরফ থেকে অন্ততঃ এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। বোর্ড গত মাসেই জাতীয় স্বার্থের কথা মনে রেখে কিছু শর্তের বিনিময়ে ওই বিতর্কিত জমি থেকে নিজেদের দাবি প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল। অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি বাবরি মসজিদটি ভেঙে ফেলার পর ইন্ডিয়ায় মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় কমবেশি দুই হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। মসজিদটির জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটি গুঁড়িয়ে দেয় কট্টরপন্থী হিন্দুরা। তাদের দাবি, বাবরি মসজিদের জায়গাতেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল। রামমন্দির ভেঙে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। তবে মুসলিমরা বলছেন, মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির কোনও প্রমাণ নেই। এমনকি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানেও মসজিদের নিচে কখনও মন্দির ছিল; এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে হিন্দু অধ্যুসিত দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায় হেরে গেছেন মুসলিমরা। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বলপূর্বক ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদটি ভেঙে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। মসজিদটি ভাঙতে বিজেপির নেতৃত্বে অন্তত ১৫ হাজার উগ্রপন্থী হিন্দু অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। তাই সেখানে মসজিদ পুনঃস্থাপনই যৌক্তিক বলে মনে করে মুসলিমরা। তবে বিষয়টি আদালতে গড়ালে প্রায় ২২ বছর আগে গুঁড়িয়ে দেওয়া মসজিদটির জায়গায় মন্দির নির্মাণে গত শনিবার (৯ নভেম্বর) ইন্ডিয়ার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের রায়ে সেই সুযোগ আর থাকলো না মুসলিমদের জন্য। যদিও দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের এমন রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোককুমার বঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, প্রথমে‌ গুন্ডামি করে মসজিদটা ভাঙা হলো, তারপর আদালত বললো ওখানে মন্দির হবে! মসজিদের নিচে মন্দির থাকার দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কালকে যদি আমি বলি, আপনার বাড়ির নিচে আমার একটা বাড়ি রয়েছে, এটা আমার বিশ্বাস। তাহলে কি আপনার বাড়িটা ভেঙে জমিটা আমাকে দিয়ে দেওয়া হবে?’ সেই প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসই থেকে গেল ইন্ডিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। সূত্র: এনডিটিভি, আল জাজিরা।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading