যৌন সংসর্গ থেকেও ছড়াতে পারে ডেঙ্গু!
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১২ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১২:৪৬
হেমন্তের অকালবৃষ্টিতেও বেড়েছে ডেঙ্গু রুগীর সংখ্যা। শুধু দেশেই নয়, ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গেও হঠাত্ই ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। এই রোগ মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় মশার (স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতি) মাধ্যমে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পরে সেই মশা অন্য ব্যক্তিকে কামড়ালে তিনিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তবে নতুন তথ্য মিলেছে স্পেনের স্বাস্থ্য দফতরের গবেষণায়। তাদের দাবি, মশার কামড়-ই নয়। যৌন সংসর্গ থেকেও সংক্রামিত হতে পারে এই রোগ! মাদ্রিদের বাসিন্দা দুই যুবকের রক্তে পাওয়া গিয়েছে ডেঙ্গুর জীবাণু। তাদের মধ্যে একজন অগস্ট মাসে কিউবা ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মাদ্রিদে ফিরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার রক্তে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়। সম্প্রতি তার পুরুষসঙ্গীও ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। তিনি গত কয়েক মাসে স্পেনের বাইরে যাননি। এমনকি, মাদ্রিদে ডেঙ্গুর কোনও উপদ্রবও ছিল না। এই সমকামী যুবকদের মধ্যে সম্প্রতি যৌন সংসর্গ হয়েছে। স্পেনের জনস্বাস্থ্য দফতরের দাবি, শারীরিক মিলনেই কিউবাফেরত পুরুষের থেকে তার পুরষসঙ্গীর মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রামিত হয়েছে। এমনই খবর দিয়েছে কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার। খবরে আরও বলা হয়েছে, চমকপ্রদ হলেও এই দাবি অস্বাভাবিক নয়। জানাচ্ছেন চিকিত্সক অমিতাভ নন্দী। তার কথায়, রক্ত-সহ মানবদেহের অন্যান্য জলীয় অংশের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রামিত হয়। যদিও সেই সম্ভাবনার হার কম। কিন্তু অসম্ভব নয়। সংক্রামক ও ট্রপিক্যাল ব্যাধি বিশেষজ্ঞ নন্দীর কথায়, ফ্ল্যাভি ভাইরাস গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত ডেঙ্গুর জীবাণুর সংক্রমণের মূল লক্ষ্য রক্তের লিম্ফোসাইট শ্বেতকণিকা। মশা কামড়ানোর পরে তিন থেকে ছ’দিন সময় লাগে ডেঙ্গুর উপসর্গ প্রকাশ পেতে। আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, সংক্রামিত হওয়ার পরে ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনও লক্ষণ প্রকাশই পায় না। ডাক্তারি পরিভাষায় তারা ‘ক্যারিয়ার’। নিজেদের অজান্তেই বহন করে নিয়ে চলেছেন ডেঙ্গুর জীবাণু। তাদের শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দাবিয়ে রেখে দেয় অসুখকে। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় যখন তাদের কামড়ানোর পরে স্ত্রী এডিস মশা অন্য কাউকে কামড়ায়। দ্বিতীয় ব্যক্তির হয়তো ইমিউনিটি পাওয়ার দুর্বল। ফলে তিনি ডেঙ্গুর কোপে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। তবে ডেঙ্গু মানেই শয্যাশায়ী হয়ে পড়বে, তা নয়। স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রাক্তন অধিকর্তা অমিতাভ নন্দী জানালেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে যাদের দেহে উপসর্গ প্রকাশ পায়, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই তা সর্দি-কাশি-জ্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাতেই। বাকিদের মধ্যে জ্বরের পাশাপাশি দেখা দেয় হাত-পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা, গাঁটের যন্ত্রণা, এমনকি, চোখের পেশিতে ব্যথাও। ওষুধ এবং চিকিত্সকের পরামর্শে তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। চিকিত্সার পরিভাষায় একে বলা হয় সিম্পল আনকমি্প্লকেটেড ডেঙ্গু। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই উপসর্গ জটিল হয়ে ওঠে। সংক্রামিত হয় লিভার, ফুসফুস, ব্রেনের মতো দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেক্ষেত্রে তারা ‘সিভিয়ার কমি্প্লকেটেড ডেঙ্গু’-র শিকার। রোগের জটিলতা যা-ই হোক না কেন, ডেঙ্গু সংক্রামিত হয় রক্ত এবং মানবদেহের অন্য জলীয় অংশের দ্বারা। সেন্ট্রোম্যাপের অধিকর্তা অমিতাভ নন্দীর কথায় সরাসরি মশার কামড় ছাড়া বিভিন্নভাবে ছড়াতে পারে ডেঙ্গু। সেগুলি হলো: ১. ব্লাড ট্রান্সফিউশন ২. অস্থিমজ্জা বা বোনম্যারো প্রতিস্থাপন ৩. অঙ্গ প্রতিস্থাপন ৪. সদ্যোজাতকে স্তন্যপান ৫. যৌন সংসর্গ ৬. ল্যাব অ্যাক্সিডেন্ট, অর্থাত্ পরীক্ষা করার সময় সিরিঞ্জ ভেঙে বা অন্য কোনওভাবে ডেঙ্গু জীবাণুর সংস্পর্শে এলে। এইভাবে রোগীর থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হন। অর্থাত্, এইচআইভি-র মতো ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও এসব ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন দরকার।

