দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে – আইনমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৪ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:১৪
বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদন করলে সব আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন করে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়া সম্ভব। গতকাল বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে এদিন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ- ছেলের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে তখনই বলেছিলাম, তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে জমা দেওয়ার পর দায়িত্ব হবে প্রসিকিউশন টিমের। আমি প্রসিকিউশন টিম রেডি রাখার কথা বলেছিলাম, যাতে প্রতিবেদন পৌঁছার পরই কার্যক্রম তারা শুরু করতে পারেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রসিকিশন টিম রেডি রেখেছি।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের পর কিছু প্রক্রিয়া আছে। আসামিদের কেউ যদি পলাতক থাকে তাদের হাজির হওয়ার জন্য আদেশ দিতে হয়। সে যদি সেই সময়ে হাজির না হয়, তাকে যাতে পলাতক অবস্থায় বিচার করা যায়। সেজন্যও গেজেট নোটিফিকেশন করতে হয়, সেসব ফরমালিটিজগুলো যতদ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করবো। আমি আগামী সোমবারের মধ্যে প্রসিকিউশন টিমকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলবো। তারা যেন এই ফরমালিটিগুলো শিগগিরই সম্পন্ন করে। আইনে বলা আছে, কিছু সময় দিতে হবে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে যত দ্রুত করা যায়, তা করা হবে।’ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো এ বিষয়ে আবেদন করতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই আবেদন আসতে হয়। সেটা যখন আইন মন্ত্রণালয়ে আসবে, আমরা সেটা দ্রুত বিচার আদালতে বিচারের জন্য যে আইনি প্রক্রিয়া, সেটা সম্পন্ন করবো।’ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যদি বিচার করা হয়, বিচারের জন্য প্রথম সময় ৯০ দিন, তারপরের সময় ৩০ দিন। এই ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে না পারলে, তৃতীয়বারের জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। এই ১৩৫ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে হয়।’ পলাতকদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট সময় বেঁধে দেন এবং তারা আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে পলাতক দেখিয়ে বিচারের যে প্রক্রিয়া আছে, সে অনুযায়ী বিচার করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি প্রক্রিয়া আছে। খবরের কাগজে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এরপরও তারা না আসলে পলাতক দেখিয়ে বিচার হবে। সেক্ষেত্রে গেজেট নোটিফিকেশন করতে হবে।’
আনিসুল হক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও জনগণের চাহিদা অনুযায়ী এই হত্যার বিচার যথা শিগগিরই করা হবে। জনগণ চেয়েছে নুসরাত হত্যার বিচার দ্রুত করার জন্য, সেটাও করা হয়েছে। আবরার হত্যার বিচার দ্রুত করতে হবে। সব আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন করে আমরা আবরার হত্যা মামলার বিচার করবো।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চার্জশিটে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

