ফরিদপুরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ঘুরিয়ে দিয়েছে বাজার

ফরিদপুরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ঘুরিয়ে দিয়েছে বাজার

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৭ নভেম্বর ২০১৯ । আপডেট ১২:১২

ফরিদপুরের বাজারে মুড়ি কাটা পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় এক দিনেই নেমেছে মণ প্রতি পেঁয়াজের দাম কমেছে ‘দুই হাজার টাকা।’

জেলার দুই উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।

ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়াতুল্লাহ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদ নূর ইসলাম মোল্লা বলেন, “শনিবার থেকে এ বাজারে পুরাতন পেঁয়াজ ১৮০ টাকা কেজি দরে এবং নতুন মুড়ি কাটাপেঁয়াজ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে।”

গুটি থেকে উৎপাদিত হওয়ায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ বলা হয়। এছাড়া চারা থেকে উৎপাদিতকে হালি পেঁয়াজ এবং বীজ থেকে উৎপাদিতকে দানা পেঁয়াজ বলা হয়।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, চলতি শীত মৌসুমে ফরিদপুরে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে।

“যে সব চাষি আগড় (আগে) পেঁয়াজ রপন করে ছিলেন, তারা এখন উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারের আনতে শুরু করেছেন।

এতে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে উল্লেখ করে এই কৃষি কর্মকর্তা মনে করছেন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অনেক চাষি আগাম জাতের পেঁয়াজ বাজারে তুলতে পারবে।

বোয়ালমারী উপজেলার চিতার বাজার, ময়েনদিয়া বাজার, জয় পাশা পেঁয়াজ বাজারের ব্যসায়ীরা জানান, শনিবার বাজার শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চাষিরা আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ নিয়ে হাজির হয়। এ সময় ক্রেতারা ওই পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নাছিম আহমেদ কবির পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, চিতার বাজারের আমি দুই মণ পেঁয়াজ নিয়ে যাই কিন্তু হঠাৎ করে দেখি দর পড়ে গেছে।

“পরে বাধ্য হয়ে সাত হাজার টাকা মণে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করি।”

এ এলাকার পেঁয়াজের বড় চাষি শামিম মোল্লা বলেন, “হঠাৎ করে শনিবার থেকে এই বাজারে পেঁয়াজের দর মণ প্রতি দুই হাজার টাকা কমে গেছে।

চিতার বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি মওলা বিশ্বাস জানান, গত দুই দিন ধরে পেঁয়াজের দর কমছে।

এদিকে জেলার সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া, বালিয়াগট্টি বাজারে পুরানো পেঁয়াজ সর্বোচ্চ সাড়ে সাত হাজার টাকায় এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানান, এ জেলার নয় উপজেলাতে পেঁয়াজ মৌসুমে চার লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজের উৎপাদন হয়। চলতি শীত মৌসুমের আগাম জাতের মুড়ি কাটা পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার মেট্রিক টন।

এ ছাড়াও এ জেলায় হালি পেঁয়াজ  ও  দানা পেঁয়াজও উৎপাদন হয়।

শনিবার পেঁয়াজ চাষিদের সঙ্গে মাঠে গিয়ে কথা বলে এসে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, “চাষিরা বলেছে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ঘরে তুলতে পারবে তাদের পেঁয়াজ।”

আর এতে করে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন এই জেলা প্রশাসক।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading