‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা গভীর ছিল’
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৯ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২৬
লন্ডনে ‘শতকণ্ঠে এগিয়ে যাওয়ার গান’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের তথ্য সচিব আবদুল মালেক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান জেল থেকে মুক্তি পেয়ে প্রথম লন্ডনেই আসেন। এটাই প্রমাণ করে যুক্তরাজ্যের সরকার ও মানুষ বিশেষ করে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা কতখানি গভীর। বাংলাদেশি-ব্রিটিশদের প্রাণকেন্দ্র পূর্ব লন্ডনের এক মিলনায়তনে যুক্তরাজ্যের বঙ্গবন্ধু ‘শেখ মুজিব রিসার্স সেন্টার’ ও এটিএন বাংলার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। গতকাল সোমবার (১৮ নভেম্বর) লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আবদুল মালেক বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রিটেনের জনগণ ও বাংলাদেশি-ব্রিটিশদের অতুলনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান জেল থেকে মুক্তি পেয়ে প্রথম লন্ডনেই আসেন। এটাই প্রমাণ করে ব্রিটেনের সরকার ও মানুষ বিশেষ করে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা কতখানি গভীর ছিল। এজন্য আগামী বছর লন্ডনসহ বিশ্বের প্রধান ১০টি শহরে বাংলাদেশের সঙ্গে যুগপত্ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী বিশেষভাবে পালন করা হবে। তিনি জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সবাইকে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-ব্রিটিশদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা ও খাদ্য উত্পাদনের সাফল্যে বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শেখ হাসিনার কার্যকর নীতিমালা ও পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অনেক বেশি সুদৃঢ়। তথ্য সচিব বলেন, ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের শুধু আশ্রয়ই নয়, প্রতিদিন তাদের খাওয়া-পরা, চিকিত্সা, নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এতবড় একটি কাজ সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমগ্র জাতি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ বলেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশ হিসেবে এগিয়ে চলেছে। আমরা আশা করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২১ সালে আমাদের দেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম, ব্রিটেনের বিশিষ্ট রাজনীতিক স্টিফেন টিমস ও রোশনারা আলী এবং লন্ডন বোরাগ অফ ক্রোডানের মেয়র হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। মেলার উদ্বোধক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ও বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সস্পর্কিত জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। লন্ডনসহ ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তি, গবেষক, পেশাজীবী, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক ও সংস্কৃতিকর্মীরা দু’ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। এ অনুষ্ঠানে একশত বাংলাদেশি-ব্রিটিশ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের চিরচেনা গানগুলো নতুন করে পরিবেশন করেন।

