এবার যুবলীগের কাণ্ডারি শেখ মনির ছেলে পরশ, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ঘোষণা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৪ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৪
ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ভাবমূর্তি সঙ্কটে থাকা যুবলীগকে উদ্ধারের দায়িত্ব পেলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপির বড় ভাই। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান অঙ্গ সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল। যিনি এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ছিলেন। গতকাল শনিবার বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বসে কাউন্সিল অধিবেশন। কাউন্সিলের নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিবেশনে কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান চয়ন ইসলাম পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে পরশের নাম প্রস্তাব করেন। তখন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ তা সমর্থন করেন। আর কোনো নামের প্রস্তাব না ওঠায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে পরশকে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ মনির বড় ছেলে পরশ এতদিন রাজনীতি থেকে দূরেই সরিয়ে রেখেছিলেন নিজেকে। শিক্ষকতা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির এই সাবেক ছাত্র। তার ছোট ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস ইতোমধ্যে রাজনীতিতে এসে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী সংগঠনের নেতাও তিনি।
পরশ-তাপসের চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে রয়েছেন। শেখ সেলিমও এক সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন। শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক চৌধুরীও হয়েছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান; অর্থাত্ পরশের ঠিক আগেই যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছিলেন তারই ফুপা ওমর ফারুক চৌধুরী। ওমর ফারুকের দায়িত্ব পালনের মধ্যেই বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় যুবলীগকে। গত সেপ্টেম্বরে এক সভায় যুবলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হসিনার উষ্মা প্রকাশের পর ঢাকায় ক্যাসিনো বন্ধে র্যাবের অভিযানে প্রকাশ পেতে থাকে তাতে জড়িত সংগঠনটির নেতাদের নাম, গ্রেপ্তারও হন কয়েকজন নেতা। শুরুতে এতে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক; পরে নিশ্চুপ হয়ে যান তিনি। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে থাকা যুবলীগ নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ আসতে থাকে তার বিরুদ্ধেও। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় ওমর ফারুককে, বহিষ্কার করা হয় ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ দাগিদের। সম্মেলন বা কংগ্রেসের দিন তারিখও দিয়ে দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ থেকে; তার আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামকে। সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য যুবলীগের যে কমিটি হয়েছে, তাতে আকস্মিকভাবে পরশের যুক্ত হওয়া দেখে সবার আলোচনায় আসে তার নামটি। সম্মেলন প্রস্তুতি দেখতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়েছিলেন, তখন তার সঙ্গে পরশ ছিলেন। এরপর সম্মেলনের অভ্যর্থনা উপ-কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কার্যালয়ে তিনি গেলে কর্মীরা করতালি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, “এতদিন ধরে রাজনীতিবিমুখ পরশ তার ফুপু শেখ হাসিনার নির্দেশেই রাজনীতিতে নামছেন। সত্ ও মেধাবী নেতৃত্ব তুলে আনার অংশ হিসেবেই পরশের মতো একজনকে রাজনীতিতে আনা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নিজস্ব চিন্তার ফসল।”
সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো : যুবলীগের নবনির্বাচতি চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, যুবলীগের একজন কর্মী হিসেবে সততার সঙ্গে তিনি অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ এবং তাঁর কন্যার দেশের প্রতি হূদয়ের ভালবাসা থেকে আমি সাহস পাই। তাই আজ আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই, আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হচ্ছে আমি সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে দায়িত্বগুলো পালন করব।’ গতকাল শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় সভায় চেয়ারম্যান হিসেবে নাম ঘোষণার পর নিজের প্রথম অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেন পরশ। যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন, যুবলীগের একজন চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের পাশে থেকে কাজ করব। আপনারা আমার শক্তি হবেন। আমার বাবা মণি বঙ্গবন্ধুর ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পক্ষে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য এই সংগঠন করেছিলেন। ইমেজ সংকটে থাকা যুবলীগ নিয়ে তিনি বলেন “আমার চেষ্টা থাকবে যুব সমাজ যেন ‘আই হেটস পলিটিসক’ থেকে বেরিয়ে এসে জয়বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধু বলে দেশের কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখে।” ‘আওয়ামী লীগ শহীদের রক্ত দ্বারা তৈরি একটি অনুভূতির নাম’- আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে যুবলীগ সভাপতি বলেন, আমি একজন শহীদের সন্তান। ছোট বেলায় আমি এবং আমার ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস মা-বাবাসহ অন্যান্য স্বজনদের হারিয়েছি। তাই আমি রাজনীতি থেকে অনেক দূরে ছিলাম। আমাদের দুঃখ শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা অনুধাবন করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের কারণে সে বিপ্লব সম্পূর্ণ হয় নাই উল্লেখ করে যুবলীগের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স কর্মসূচি দিয়েছেন সেই কর্মসূচিকে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের একটি কর্মসূচি হিসেবে দেখি।

