শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ – রাষ্ট্রপতি

শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ – রাষ্ট্রপতি

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৪ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩২

গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উচ্চশিক্ষা যাতে কোনোভাবেই সার্টিফিকেটসর্বস্ব না হয় সেদিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ত্রয়োদশ সমাবর্তনে এ আহ্বান জানান জানান। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, যুগের চাহিদাকে ধারণ করে বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারি বেসরকারি মিলে বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৮টি। এ ছাড়াও তিনটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। “বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা। কারণ গুণগত শিক্ষা ছাড়া শিক্ষা মূল্যহীন। তাই উচ্চশিক্ষা যাতে কোনক্রমেই সার্টিফিকেটসর্বস্ব না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।”  সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “শুধু পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না। পাঠ্যবিষয়ের সাথে সাথে বহির্জগতের জ্ঞানভাণ্ডার হতে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। নিজেকে কর্মী ও জ্ঞানী করে তোলাই হবে তোমাদের মূল লক্ষ্য। তোমাদের উচিত ত্যাগ ও সত্যের অভিমুখী হওয়া। সেই সাথে হতে হবে সুস্থ ও সবল মনের অধিকারী। উচ্চ চিন্তা ও সহজ জীবনাচরণ তোমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।” শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আপনারা উন্নত জাতি তৈরির মহান কারিগর। আপনাদের হতে হবে নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী। আপনাদের হতে হবে নিরপেক্ষ, অকুতোভয়, সত্যবাদী।” “অভিভাবকবৃন্দের প্রতি অনুরোধ, আপনারা আপনাদের সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হোন। এই সন্তানরাই আমাদের ভবিষ্যত্। সবসময় মনে রাখবেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতাকামী জনগণ প্রাণের বাজি রেখে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছে। ত্যাগের এই অগ্নিশিখা নিজেদের মাঝে প্রজ্জ্বলিত রাখতে হবে। আমাদের রয়েছে গর্ব করার মতো ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই গর্বের গাথা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য।” উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “জাতির উন্নয়ন, উন্নত সমাজ গঠন ও বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সচেতন। দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। “ইতিমধ্যে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে মাথায় রেখে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ন্যানো টেকনোলোজি, রোবটিক্স, ব্লক চেইন ম্যানেজমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সরকার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে।”  অনুষ্ঠানে কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষা জীবন শেষ করার জন্য চারজন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্ত ছিলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন তামারা হোসেন আবেদ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ভিনসেন্ট চ্যাং।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading