রঙ্গমেলার সমাপনীতে মঞ্চস্থ খনা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২৪
নগরীর আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ১১ দিনব্যাপী চলেছে আন্তর্জাতিক নাট্যোত্সব ‘বটতলা রঙ্গমেলা ২০১৯’। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) এ উত্সবের শেষ দিন। এ দিন মঞ্চস্থ হয় বটতলা নাট্যদলের জনপ্রিয় নাটক ‘খনা’। নাটকটি রচনা করেছেন সামিনা লুত্ফা নিত্রা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার। ‘খনা’ নাটকে খনা এক বিদুষী যার অন্য নাম লীলাবতী। তার গল্পটা অনেক পুরনো, কিংবদন্তীর ঘেরাটোপে বন্দী। তবু যেটুকুর তল খুঁজে পাওয়া যায় তাতে বোধ হয় যে তিনি এক বিদুষী জ্যোতিষী, স্বামী মিহিরও একই বৃত্তিধারী। শ্বশুর যশস্বী জ্যোতিষী বরাহ মিহির। পুত্রজায়ার যশ, খ্যাতি ও বিদ্যার প্রভাব দর্শনে বরাহের হীনমন্যতা ও ঈর্ষা। শ্বশুরের নির্দেশে লীলাবতীর জিহ্বা কর্তন ও তার ‘খনা’ হয়ে ওঠার গল্প পেরিয়েছে প্রজন্মের সীমানা। খনার বচনের মাঝে টিকে থাকা শত বছরের আগের জল, মাটি, ফসল আর মানুষের গন্ধ মাখা জ্ঞান আর সত্যটুকু কি সত্যি লীলাবতীর? নাকি এ সত্য-তথ্য সবই এ ভূ-খন্ডের বৃষ্টি, পলি, আর জল হাওয়ার সাথে মিশে থাকা যুগান্তরের সামষ্ঠিক জ্ঞানের সংকলন? লীলাবতী শুধুই কি একজন নারী বলে তার পরিণতি নির্মম, নাকি তিনি নারী হয়ে মিশেছিলেন চাষাভুষোর সনে; সেই তার কাল? পুরুষতন্ত্র না শ্রেণী কাঠামো; নাকি উভয় দাঁড়ায় লীলাবতীর বিপ্রতীপে? মিহির বা প্রাকৃত লোকালয় কারোর পরোয়া না করা জীবন ত্যাগী নেশার ঘোর তাকে নিয়ে যায় দিগন্তের ওপার। খনার সত্য শুধু থেকে যায় কৃষকের মুখে। তবু প্রশ্ন থাকে, খনার সত্যই কি একক সত্য? নাকি আজকে নির্ভুল যা কাল তা হতে পারে অসত্য? শুধু সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর যে মৃত্যুনেশা তার সে নেশা কি এক রোখা জেদ? খনা নিজেই নিজেকে করেন সম্মুখীন প্রশ্নের। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোঃ আলী হায়দার, মিজানুর রহমান, সামিনা লুত্ফা নিত্রা, তৌফিক হাসান, ইমরান খান মুন্না, শারমিন ইতি, খালিদ হাসান, আব্দুস সালাম, আব্দুল কাদের, তাহমিনা সুলতানা মৌ, ব্রাত্য আমীন, জিয়াউল আবেদীন রাখাল, বাকিরুল ইসলাম, ইভান রিয়াজ, সেউতি শাহগুফতা, পঙ্কজ মজুমদার, লায়েকা, কনা, দোলা, তাহিম, অনিন্দিতা, জগ ও কাজী রোকসানা রুমা।

