আবারও পতনের শঙ্কা পুঁজিবাজারে

আবারও পতনের শঙ্কা পুঁজিবাজারে

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ৩০ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩০

কিছুটা স্বস্তি ফিরতে না ফিরতেই আবারও পতনের  শঙ্কা দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। পতনের ধারা কাটিয়ে গত সপ্তাহে কিছুটা হলেও ঊর্ধ্বমুখী ছিল শেয়ারবাজার। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই বেড়েছে মূল্যসূচক। এরপরও সপ্তাহজুড়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে আগামী সপ্তাহের ভালো লেনদেন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে সব দিন ভালো যাবে না, তবে এই সময়ে খারাপ হলেই  বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়াবে। এ জন্য আগামী সপ্তাহটা ভালো হওয়াটা খুবই জরুরি।’ এ প্রসঙ্গে  বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘পুঁজিবাজার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। অথচ বিভিন্ন সময় পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এই কারণে পুঁজিবাজারের সংস্কারের বিষয়টি সিপিডির পক্ষ থেকে আগেও বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নানা প্রতিশ্রুতির পরও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। বিশেষ করে গত নির্বাচনের পর থেকে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।’খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সিপিডি মনে করে. পাঁচ কারণে পুঁজিবাজারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে দুর্বল আইপিও, বিশৃঙ্খল আর্থিক বিবরণী, বিও অ্যাকাউন্টে স্বচ্ছতার অভাব, সেকেন্ডারি মার্কেটে সন্দেহজনক লেনদেন ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি আরও বেশি শেয়ার ও বন্ড মার্কেটের শেয়ার জোগান দেওয়া হলে পুঁজিবাজার হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে।’ তথ্য বলছে, সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সূচক সামান্য বাড়লেও লেনদেন আগের দিনের চেয়ে বেশ কমেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স-১ দশমিক ০৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৭৩১ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে। এদিকে বাজার মূলধন হারালেও সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশি-সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে, বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কমেছে। যে কারণে কমছে বাজার মূলধন। অবশ্য সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। শুধু তাই নয়,  ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করে সাড়ে ৪০০ ছাড়িয়েছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৭৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৯৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাত্ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৫৬টির মূল্য। আর ১৯টির মূল্য অপরিবর্তিত।সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮১ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক সপ্তাহে ডিএসই-এর বাজার মূলধন কমেছে ৩৭৮ কোটি টাকা। এদিকে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এই সূচকটি কমে ৩ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশর শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার। ৪৮ কোটি ৫১ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading