শিল্পকলায় ১৪তম বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা

শিল্পকলায় ১৪তম বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:০৪

‘বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতামালা’ আয়োজনের ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হল এর ১৪তম স্মারক বক্তৃতা। অনুষ্ঠিত বক্তৃতাপর্বের বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. পবিত্র সরকার এবং নাট্যসমালোচক ও সংস্কৃতিবিদ অংশুমান ভৌমিক। আয়োজনে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। এ সময় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সচিব বদরুল আনম ভূঁইয়াসহ অনেক সুধীজন। ‘একাত্তরের কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর ডাক’ শিরোনামে বক্তব্য উপস্থাপন করেন নাট্য সমালোচক ও সংস্কৃতিবিদ অংশুমান ভৌমিক। তিনি বলেন ডাকে’র অনেক মানে। ডাকের দৌলতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের খবর উড়ে এসেছে কলকাতায়। মণীন্দ্র রায়ের চিঠি বই হয়ে বেরিয়েছে। বেরিয়েছে জাহানারা ইমামের না পাঠানো চিঠি। কত একাত্তরের চিঠি এখনও অগ্রন্থিত। তেমনি আর এক ডাক হলো আহ্বান। আরেক ডাক হচ্ছে বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো/বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এই ডাক শুনতে শুনতে ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শুধু পূর্ব বাংলায় নয়, পশ্চিম বাংলাতেও এই ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন সংস্কৃতিকর্মীরা। যতীন সরকার যথার্থই লিখেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ছিল আবেগাপ্লুত সহমর্মিতা। সে সহমর্মিতার মূল উত্স ছিল বাঙালিত্ব। বাঙালীদের একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হবে, বাংলা ভাষায় যারা কথা বলে তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সব কাজকর্ম হবে বাংলায়। আবহমান বাংলা ও বাঙালী সংস্কৃতির ধারক-বাহক সেই রাষ্ট্রটি, এ রকম একটি সম্ভাবনা সকল বাঙালীর বুকে শিহরণ জাগাত। পবিত্র সরকার বলেন, চোখে না দেখেও যে নেতা হিসেবে বুকে ঠাঁই দেয়া যায়, যার ডাকে সাড়া দেয়া যায় সেই নেতাই হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে আমরা ছোটখাটো কয়েকজন মিলে কিছু কাজ করেছিলাম। আমি তখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। তখন ওই বিশাল মানুষটির ছায়া আমাদের প্রেরণা দিয়েছে। ১৯৬৯ সালে বৃত্তি নিয়ে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাই। পড়াশুনার পাশাপাশি অপ্রত্যাশিতভাবে পেয়ে যাই পূর্ব বাংলার পত্রপত্রিকা ও বইপত্র। সে সময় একটি বিষয় আমি লক্ষ্য করি যে, ইয়াহিয়া খান ৫টি বই নিষিদ্ধ করেন। শিকাগোতে ১৯৭০ সঙ্গে একটি সম্মেলন হয়েছিল বাংলা নিয়ে, মনে হচ্ছিল পুরো সম্মেলনটাই বাংলার। আমরা কেউ তখন বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি কিন্তু তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। আমরা তখন শিকাগোতে বসবাসকারী কয়েকজন মিলে একটি সংগঠন করেছিলাম। সংগঠনের ডাক দিতাম ডিনার পডকে। কারণ ওখানে ডিনারে খুব প্রচলন। এছাড়াও অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে। এভাবে প্রায় ১০ হাজার ডলার তুললাম। যে অর্থ দিয়ে পরবর্তী বাংলার মুক্তিযুদ্ধের জন্য অস্ত্র, রাবারের নৌকা এবং ডুবুরীদের জন্য পোশাক কিনে পাঠিয়েছি। যুদ্ধের জন্য জীবন দিতে পারি নাই কিন্তু চেষ্টা করেছি কিছু একটা করার জন্য। হিন্দু-মুসলমান মিলে যে একযোগে মাঠে নামা যায় তা বুঝতে পেরেছি বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার ডাকে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading