জাতীয় নাট্যশালায় সংলাপের বোধ
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:০৬
আগামীকাল (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে সংলাপ গ্রুপ থিয়েটারের দর্শকপ্রিয় নাটক ‘বোধ’। মুন্সী প্রেমচাঁদ-এর গল্প অবলম্বনে ‘বোধ’-এর নাট্যরূপ দিয়েছেন স্বপন দাস এবং নির্দেশনায় রয়েছেন মোস্তফা হীরা। নাটকে দেখা যাবে, একটি বোধহীন সমাজ ব্যবস্থায় আমরা বসবার করছি। এ নাটকের ঘিসু ও মেধো এর বাইরে নয়। পিতা-পুত্র (ঘিসু ও মেধো) বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পর্যদুস্ত। ক্ষুধা তাদের করে তুলেছে অমানবিক, স্বার্থপর পশুসম। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সম্পর্কের বন্ধন কোন কার্যকর ভূমিকা রাখে না তাদের জীবনে। তাই নাটকে দেখা যায় সামান্য কয়েকটি সেদ্ধ আলু নিয়ে পিতা-পুত্রের লড়াই। নিজের সন্তানসম্ভবা পুত্রবধূর অতিসমান্য খাদ্য কেড়ে নিতে ঘিসু উদ্বুদ্ধ করে পুত্র মেধোকে। মেধোও বোধহীন এক জন্তুর মত কেড়ে নেয় বধূর সেই সামান্য খাবার। ক্ষুধা তাদের এমনভাবে তাড়িত করে যে- নিজের পুত্রবধুকে মৃত ঘোষণা দিয়ে কিছু পয়সা পাবার লোভ সামলাতে পারে না ঘিসু। পুত্র মেধোও তা সমর্থন করে। যে কোন ভাবে বেঁচে থাকাটাই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। অথচ কেন তারা আজ দরিদ্র, কেন পাচ্ছে না দু’মুঠো খাবার। এর জন্য এ সমাজ কতটা দায়ী। কেন তারা বৈষম্যর শিকার। এ নিয়ে ভাবে না তারা। কোন দ্রোহ নেই। নিয়তির উপর সব ছেড়ে দিয়েছে। এদের কি আর সম্পূর্ণ মানুষ বলা চলে? অবশ্য নাটকের শেষ দৃশ্যে স্বপ্নের ঘোরে ঘিসু-মেধোকে দ্রোহী হতে দেখা যায়। ঘেন্না করে এই সমাজ, সমাজ পতিদের। মেধো তার সন্তানকে বোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এমনি জীবন কথনে গড়ে উঠেছে নাটক ‘বোধ’। নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- মো. হাবীবুর রহমান, মঈনুদ্দীন হাসান খোকন, হিমা মৃধা সোমা, শাকিল আহমেদ, মাসুদ আলম বাবু।

