‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২’ নির্মাণের ঘোষণা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫৪
বজ্রপাত-ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগসহ আবহাওয়ার সামগ্রিক বিষয়ে বার্তা পাঠাতে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে এক গোলটেবিল আলোচনায় এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। দুপুর ১২টার দিকে গুলশানের স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে ‘বজ্রপাতে ঝুঁকি নিরসন ও করনীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘ব্র্যাক হিউম্যানেটেরিয়ান প্রোগ্রাম’। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডা. এনাম। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগগুলো মোকাবিলা করা গেলেও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করার মতো দেশে এখনো পর্যন্ত ভালো কোনো পথ নেই। দেখা যাচ্ছে, বন্যা ও সাইক্লোনের চেয়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেশি।’ ডা. এনামুর রহমান আরও বলেন, ‘বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে আমরা এখনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছি। এসব দুর্যোগসহ আবহাওয়ার সামগ্রিক বিষয়ে বার্তা পাঠাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।’ এ দুর্যোগে মৃত্যুহার কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে অন্যান্য বক্তারা বলেন, নতুন এক দুর্যোগের নাম বজ্রপাত। অন্যান্য দুর্যোগের পাশাপাশি সামপ্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতে সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেবে ২০১৫ সালে বজ্রপাতে ২১৯ জন এবং ২০১৬ সালে ৩৮০ জন মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে নতুন দুর্যোগ হিসেবে আওতাভুক্ত করেন। এর পরই কেবল বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নামসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহে রাখা হচ্ছে। বজ্রপাত ঠেকাতে সুনামগঞ্জ জেলায় ৯টি প্রতিষ্ঠানে ১৫টি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক লক্ষাধিক তাল গাছ রোপন করা হলেও সেগুলো বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে তেমন ভূমিকা পালন করছে না বলেও জানা যায় আলোচনা থেকে। সংবাদ উপস্থাপক মাহবুব হোসেনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মহসিন, ব্ল্যাক হিউম্যানিটেরিয়ান প্রোগ্রামের পরিচালক সাজিদুল হাসান, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের রিসার্চ ফেলো ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বজ্রপাতে আহত সাইদুর রহমান ও হোসেন মিয়া।

